
সরওয়ার আলম শাহীন,উখিয়া নিউজ ডটকম::
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, প্রশাসন ও পুলিশের একার পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তথা সুশীল সমাজের লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করেছে। তাদের দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া,এলাকাকে মাদক মুক্ত রাখা। জনপ্রতিনিধিরাই পারে মাদক নির্মূলে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে। তিনি এও বলেন, কোন জনপ্রতিনিধি মাদক পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেলে তার জনপ্রতিনিধিত্ব থাকবে না।
বুধবার দুপুর ১২টায় উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও মাদক বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৯ শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক একথা বলেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। মাদক ব্যবসায়ী যতবড় নেতা হোকনা কেন প্রশাসন কারো প্রতি নমনীয় হবে না।
তিনি বলেন, এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আধাঘন্টা মাদক বিরোধী আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে নিদের্শ দেন।
জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কক্সবাজার থেকে উখিয়া আসার পথে দেখা গেছে ফসলী জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে ফসলী জমি বিনষ্ট করা যাবে না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এভাবে ফসলী জমিতে দালান নির্মাণ ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের পরিপন্থি। আইনে বলা আছে যদি কারো বেশি প্রয়োজন হয় যে ফসলী জমিতে বাড়ী নির্মাণ করা ছাড়া তার কোন বিকল্প নাই। তাহলে ওই ব্যক্তিকে কালেক্টরের অনুমতি নিতে হবে। তিনি অবিলম্বে ফসলী জমিতে নির্মাণাধীন যাবতীয় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন, খতিয়ে দেখাতে হবে রাতারাতি ৪/৫ তলা বিল্ডিং তোলার জন্য তারা এত টাকা পেল কোথায়? এসব ব্যাপরে তিনি স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভুমকা রাখার আহবান জানান। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জরুরী ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক সমাবেশে উপস্থিত সকলকে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক, লেঃ কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলছেন, দেশের ৫ শতাধিক উপজেলার মধ্যে উখিয়া-টেকনাফ আলোচিত-সমালোচিত ইয়াবার কারণে। ইয়াবা নির্মুলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে বিজিবি। ইয়াবা-মাদকের কলংক মুছতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পরিবার থেকে বাবা-মায়েদের সন্তানের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড মহল্লাায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করে সামাজিক ভাবে মাদক কারবারিদের বয়কট করতে হবে।
বিশেষ অতিথি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আদিবুল ইসলাম বলেছেন, উখিয়া-টেকনাফ এখন মাদক বিস্তারের ঘাটি। ইয়াবা ব্যবসা এবং রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে আরো বেশী সতর্ক রয়েছে। জেলায় কোন না কোন দিন ইয়াবা কারবারিদের শায়েস্তা করতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় উখিয়ায় পুলিশ প্রশাসনের অভিযান আরো বেশী পরিচালিত হবে। ইয়াবা বিস্তার প্রতিরোধ, মাদকে জড়িতদের বিষয়ে সুখবর পাবেন অচিরেই। এটি আমাদের সকলের প্রত্যয় এবং প্রতিশ্রজতি দিচ্ছি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নেছা বেবী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউপির চেয়ারম্যান শাহ আলম, পালংখালী ইউপির চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, জালিয়া পালং ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, রতœাপালং ইউপির চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন সিরাজী প্রমুখ। এ সময় উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভুমি) ফখরুল ইসলাম, উখিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান,উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন সহ সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেনীপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন মেধু বড়ুয়া।

পাঠকের মতামত