
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া ও মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও যানবাহনে চলাচলকারী মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। সুযোগ বুঝে পথচারী কিংবা যানবাহনে থাকা ব্যক্তিদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায় তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অভিযোগ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কিংবা গাড়িতে চলাচলের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে অনেকে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই হলে শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় না; এর সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, যোগাযোগের নম্বর, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ নানা ধরনের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য হারানোর ঝুঁকিও থাকে।
এ অবস্থায় উখিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে—এমন এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন এবং বিদ্যমান সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, তারা কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করতে চান না কিংবা প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চান না। তাদের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উখিয়া থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
উখিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, দিন কিংবা রাত—সব সময় যেন তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং নিজের প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


পাঠকের মতামত