প্রকাশিত: ২৮/০৪/২০২১ ২:৪৯ এএম

বিশেষ প্রতিবেদক::
২০১৭ সালের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা ঘটনায় সেদেশের সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া রোহিঙ্গারা কারাগারে কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পর কক্সবাজারের টেকনাফে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করছে।
গত কয়েকদিনে ৫জন রোহিঙ্গা নাগরিককে এপিবিএন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের আকিয়াবের মংডূ শহর থেকে অবৈধভাবে টেকনাফে অনুপ্রবেশ করেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে টেকনাফ উপজেলার ইউনিয়নের জাদিমোরা শালবাগান ২৬ নাম্বার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে তাদের এপিবিএন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়া দুজন রোহিঙ্গা হলেন- মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াবের মংডূ শহরের বড় গজরবিলের মোহাম্মদ হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আমান উল্লাহ (২৩) ও একই এলাকার মৃত-মোহাম্মদ সালামতের ছেলে মোহাম্মদ ইসহাক (২০) ।
তারা দুজন টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান ২৬ নাম্বার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত পরিবারের কাছে আসছিলেন।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার-১৬ আমড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএনের) কমান্ডিং কর্মকর্তা ও অধিনায়ক মো তারিকুল ইসলাম তারিক।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে দুজন নতুন রোহিঙ্গা নাগরিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান ২৬ নাম্বার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে বলে খবর পায়। শিবিরের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত এপিবিএনের সদস্যরা স্ব স্ব পরিবারে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
অনুপ্রবেশ করা দুজন রোহিঙ্গা জানান, প্রায় ৪ বৎসর পূর্বে থেকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহনকারী তাদের পরিবারের কাছে চলে আসেন তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সহিংসতা চলাকালে তারা সেখানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিল। কিছুদিন পূর্বে তারা জেল থেকে মুক্তি পায়। এরপর মংডু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ক্যাম্পে বসবাসরত তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে চলে আসেন।
অধিনায়ক তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, নতুন করে রোহিঙ্গা শিবিরে আসা দুজনকে উদ্ধার করার পর শরণার্থী ত্রাণ, প্রত্যাবাসন কমিশনারের সরকারি ও জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসির) কার্যালয়ের কাছে হাজির করা হয়। এরপর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা দলনেতা (মাঝিদের) মাধ্যমে নতুন আসা দুজনকে বুঝিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট পয়েন্টে” হোম কোয়ারেন্টাইন” এ পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি একজন ও ২৫ ফেব্রুয়ারি দুইজনকে একইভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারাও মিয়ানমারের সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে টেকনাফে এসেছিলেন।

পাঠকের মতামত

স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫৪

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ...

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...
Single Page Footer