প্রকাশিত: ০৪/০৭/২০১৬ ৮:১৮ এএম

Voya Dr kasemইমরান হোসাইনঃঃ
হঠাৎ ডাক্তারের গল্প আমরা অনেকেই বহুবার শুনেছি। হঠাৎ ডাক্তারদের বিভিন্ন কৃর্তি-কান্ডের বিষয় আমাদের সবার জানা আছে। এমনি একজন হঠাৎ ডাক্তার কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সুতাচুরা গ্রামের চৌকিদার  শমসুর পূত্র কথিত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম।

গ্রামের সহজ সরল মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চলছে তার ভুল চিকিৎসার মহোউৎসব। যত্রতত্র ঔষধ সরবরাহ এমনকি নিদিষ্ট স্থানে সুক্ষভাবে ইনজেকশন প্রয়োগ করার মতো জটিল বিষয়ও তার কাছে অতি সহজ। তার ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে অনেকেই দামি গরু ছাগলটি হারিয়েছেন। অনেকেই আবার অসুস্থ পশুটি অল্পদামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশু চিকিৎকের আবুল কাশেমের নেই কোন সাটিফিকেট ! নেই কোন যথাযথ প্রশিক্ষণ ! এমনকি ইংরেজিতে সে ঔষধের নামও উচ্চারণ করতে পারে না। আরোও জানা যায়, শুরুর দিকে সে পেকুয়া বাজারের বিভিন্ন হোটেলের বয় ছিল। এ প্রতিবেদকের কাছেও তিনি সেটা স্বীকার করেছেন। পরে হোটেল বয়ের পেশা ছেড়ে সে বিদেশ চলে যান। বিদেশ থেকে এসে এখন পশু ডাক্তারি শুরু করেছেন।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বটতলীয়া পাড়ার মোহাম্মদ কালু জানান, তার ছাগলটি অসুস্থ হলে কথিত ডাক্তার আবুল কাশেমকে ডেকে আনেন। কিন্তু সে ইনজেকশন দেওয়ার দিন বিকেলেই ছাগলটি মারা যায়। একই এলাকার তাহের জানান, ওই কথিত ডাক্তার ১০টাকার একটি ওষুধের দাম নেয় ১০০টাকা । কয়েকদিন আগে তার একটি গরু অসুস্থ হয়। কথিত ডাক্তার কাশেম তাকে সত্তর হাজার টাকা দামের গরুটি পশু হাসপাতাল নেওয়ার পরামর্শ না দিয়ে নিজেই ইনজেকশন দিলে পরদিন সকালে পশুটি নেংরা হয়ে যায়। এবং অল্প টাকায় সেটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করতে হয়। এছাড়াও তার বিরদ্ধে প্রায় একই রকম অভিযোগ আছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার উপজেলাতে আবুল কাশেম নামে কোন পশু চিকিৎসক নেই। যদি তার কাছ থেকে সহজ সরল পশুপালনকারীরা প্রতারনার স্বীকার হয়ে থাকে এমন অভিযোগ পেলে আমি নিশ্চয়ই আইনগত ব্যবস্থা নিব। ওই ভুয়া পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম পেকুয়া পশু হাপাতালের কেউ নয়।

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম কোন প্রশিক্ষণ ও বৈধ সনদপত্র ছাড়াই সম্পুর্নভাবে প্রাথমিক ধারনা থেকেই কয়েক লক্ষ প্রাণি সম্পদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এই ভূয়া পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ আছে যে, সে নিন্মমানের ও মেয়াদ উর্ত্তীন বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে পশু চিকিৎসা করে সাধারন মানুষের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে যাচ্ছেন। পশু চিকিৎসক আবুল কাশেমের কোন প্রশিক্ষণ না থাকাতে সু-চিকিৎসার অভাবে প্রাণি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। যেমন গাভী প্রজজন ক্ষমতা হারাচ্ছে, বলদ চাষযোগ্য অবস্থা থেকে ছিটকে পড়ছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণি সম্পদগুলোর অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ঘটছে। তথা-কথিত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন। অন্যদিকে ভুয়া চিকিৎসক আবুল কাশেমের দাপটে বৈধ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা পশু সম্পদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে বিব্রতবোধ করে।

এব্যাপারে ভুয়া পশু চিকিৎসক আবুল কাশেমের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার এনজিও সংস্থা ‘ব্রাক’এর কাছ থেকে ডাক্তারী শিখেছি। সার্টিফিকেট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

পাঠকের মতামত

রামুর ফতেখাঁরকুলে উপ-নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে প্রচারনায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী

রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি ৩ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া ...

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ দুদকের মামলা

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ স্পেশাল ...