প্রকাশিত: ১৮/০১/২০২১ ৯:৪৯ এএম

মাহাবুবুর রহমান::
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে কক্সবাজারে বিএনপির কার্যাক্রম। যদিও এখনো দলীয় কোন সিদ্ধান্ত না পেলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জেলার বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদে একই সাথে পৌরসভায়ও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুুতি নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। তবে নির্বাচন সুষ্ট না হওয়ার আশংকা অনেক ইউপিতে প্রার্থীরা নির্বাচন করতে আগ্রহী নয় বলে জানা গেছে। তবুও দলীয় কর্মী এবং ভোটারদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। একই সাথে সরকারের স্থানীয় নির্বাচন গুলো সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ করার দাবীও জানান তারা।
ফেব্রæয়ারীর প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সে হিসাবে কক্সবাজারের ৭১ টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ১৫ টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্টিত হবে আগামী মার্চ মাসের দিকে। সে জন্য ইতি মধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রত্যান্ত অঞ্চলে নির্বাচনী আমেজ বইছে পুরু দমে। এর মধ্যে সরকার দলীয় বা আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের বেশি দৌড়ঝাপ দেখা গেলেও অনেকটা এখনো নিরব ভুমিকায় আছে বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে কিছু ইউনিয়নে বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে অনেকে গনসংযোগ শুরু করলেও জেলা বেশির ভাগ ইউনিয়নে বিএনপির পক্ষে কোন প্রার্থীকেই মাঠে দেখা যাচ্ছেনা। এ ব্যপারে জানতে চাইলে পিএমখালী ইউনিয়নের বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী ছৈয়দ নুর বলেন,আমি গত নির্বাচনেও বিএনপির ধানের শীর্ষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম। তখনো বহুমুখি ষড়যন্ত্রের কারনে সামান্য ভোটের হেরেছি। এখনো আমি বিশ^াষ করি সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারলে পিএমখালীতে ধানের শীর্ষের প্রার্থীর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তবে ইতি মধ্যে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের হুমকি ধমকি শুরু হয়ে গেছে, জানিনা ভবিষ্যতে কি হয়। মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সরওয়ার আলম বলেন,ইতি মধ্যে আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসাবে প্রচারনা শুরু করেছি। তবে শুরুতেই আমাদের দলের পক্ষে কাজ করতে পারে এমন মানুষজনকে নানান ভাবে হুমকি ধমকি দেওয়া শুরু হয়েগেছে। অনেককে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার হুমকি আসছে। সর্বোপরি ভোটকেন্দ্রে আদৌ মানুষ যেতে পারবে কিনা ? সেটা নিয়ে এখনো চিন্তাই আছি। যদি সুষ্ট নির্বাচন হয় তাহলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। এদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন জিকু বলেন,গত কয়েকটি নির্বাচন দেখে সাধারণ মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের চাপে সারা দেশে বিএনপি নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। সে বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় ভাবে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে পরিবেশ ভাল থাকলে আমরা নির্বাচনে যাওয়ার জন্য আগ্রহী। এ ব্যপারে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড,শামীম আরা শপ্না বলেন,আমি ব্যাক্তিগত ভাবে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী না। কারন গেল কয়েকটি নির্বাচন দেখে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কোন নির্বাচন বা মানুষের মতামত প্রকাশের মাধ্যম হতে পারেনা। সে জন্য মানুষ এখন আর ভোট কেন্দ্রে আসেনা। তবে এখনো কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা পাইনি কিভাবে প্রার্থী বাছাই করবো বা কাদের বাছাই করবো। তাই কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী কাজ করবো। এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎসজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, যদিও এখনো কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা আসেনি তবে যেহেতু দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সেই ধারনা থেকে আমরা আসন্ন ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে আশা করি যেহেতু স্থানীয় নির্বাচন সরকার পরিবর্তন হবে না তাই স্থানীয় নির্বাচন গুলো সরকারের উচিত সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ করা। আমরা সেই আশাতেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।

পাঠকের মতামত

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...