প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০১৭ ৮:০২ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:১০ পিএম

নিউজ ডেস্ক::
এমপি আশেক উল্লাহ রফিক আমাকে ধারাবাহিক ভাবে বলে আসছেন- দুর্যোগপূর্ণ কুতুবদিয়ায় একটি স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মণ করা হলে এই দ্বীপবাসী শান্তিতে থাকবে। মূলত ত্রাণ নায় তাঁদের সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য দরকার একটি স্থায়ী বেড়ীবাঁধ। -গতকাল কুতুবদিয়ায় প্রাধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ বিতরণ করতে যেয়ে পৃথক জনসভায় কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুতুবদিয়ায় ত্রাণ সংক্রান্ত ইউনিটের প্রধান সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক। জনাব নানক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, কুতুবদিয়ায় শেখ হাসিনার সরকার স্থায়ী বেড়ীবাঁধ-ত নির্মাণ করবেই বেড়ীবাঁধের পর কুতুদিয়াকে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে। মি. নানক বলেন- প্রয়োজনে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপটিকে বিদ্যুতের মূল গ্রীডের সাথে সংযুক্ত করা হবে।

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় মোরা’র পর গতকাল কুতুবদিয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি টিম সাবেক মন্ত্রী ও শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণকল্পে কুতুবদিয়া সফর করেন। এসময় পূর্ব চর দ্রুং প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তন ও কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ত্রাণ বিতরণ পূর্বক সমাবেশে তিনি এসব ঘোষণা দেন। এসময় সাবেক মন্ত্রী নানক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত কুমার রায় বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা কুতুবদিয়ার দুর্গত মানুষের খবর নিতে এই দূর মফস্বল দ্বীপে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা নির্দেশ দিয়েছেন – দুর্গত এই কুতুবদিয়ার মানুষের পাশে দাঁড়াতে। প্রধানমন্ত্রী এই কুতুবদিয়ার মানুষের সার্বিক অবস্থার খবর নিচ্ছেন। এদিকে গতকাল প্রথম দুপুরে ত্রাণ দলের সাথে এ প্রতিবেদক কুতুবদিয়ায় যান। এসময় বিভিন্ন এলাকার দূর্গত একাধিক নারী-পুরুষের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের অনেকের অনেকের বক্তব্য এই- ‘মূলতঃ কুতুবদিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী এখানে একটি স্থায়ী অথচ ঠেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করার। আমাদেরকে ত্রাণ নয়, একটি স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য লিখুন।’ এদিকে পৃথক সমাবেশগুলো শুরু হলে স্বাগত বক্তৃতায় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক এই অঞ্চলের মানুষগুলোর জীবন রক্ষা ও দুর্যোগের করালগ্রাস থেকে বাঁচতে একটি স্থায়ী বেড়ীবাঁধের উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন। পরে তাঁর বক্তব্যের সূত্রধরে ত্রাণদলের প্রধান প্রভাশালী আওয়ামী লীগ নেতা- জাহাঙ্গীর কবির নানক এখানে স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেন। এমপির কথা শুনে এরই মধ্যে তিনি সরকারের পানি মন্ত্রীর সাথে কথা সম্পন্ন করেছেন বলেও সমাবেশে জানান। বক্তৃতায় তথ্য উপস্থাপন করে তিনি এও বলেন- বিগত জামায়াত বিএনপির জোট সরকারের আমলে এখানে মিমার্ণ হতে যাওয়া বেড়ীবাঁধের কাজ অনেকটা থামিয়ে দেওয়া হয়। রহস্যজনক ভাবে খালেদা জিয়া সরকার কর্তৃক এখানে এক কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ কমিয়ে আনা হয়। যার খারাপ ফল এই দ্বীপবাসীকে ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি জানান- আপনাদের এমপি আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক ভাবে তদবীর করে যাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশ্বস্ত এমপি, তাঁর চেষ্টায় এখানে সামগ্রীক উন্নয়ন তরান্বিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গতঃ গত ৩০ মে প্রলংকরী ঘুর্ণিঝড় মোরা কুতুবদিয়া উপকূলে আঘাত হানে। এই ঝড়ের আঘাতে কুতুবদিয়ার মানুষ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার দ্রুত এখাকার মানুষের জন্য মঙ্গলকর উপায় সৃষ্টি করতে উদ্যোগ নেন। ঝড়ের পরপরই বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর জাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ জরুরী ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কুতুবদিয়ায় পৌঁছান। এখানে প্রাথমিক ভাবে চাল, ডাল, মুড়ি, চিড়া, গুড়, মোমবাতি, পলিথিন ও ম্যাচ সরবরাহ করা হয়। কাজ করে বিশেষ চিকিৎসা টিমও। এই ত্রাণ সহয়তার পর এলাকার এমপি আশেক উল্লাহ রফিককে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের এই বড় দলটি গতকাল এই দ্বীপ ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পৌঁছান। তারা জরুরী ত্রাণের সাথে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়- প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন- যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে তাদেরকে নতুন করে বাড়ি নিমার্ণ করে দেওয়া হবে। এসব ঘোষণায় করতালি মূখর হয়ে উঠে সভাস্থল। জানগেছে এই দুর্যোগে কুতুবদিয়ার পশ্চিমে উপকূলীয় বন বিভাগের বিশাল ঝাউবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় উত্তর দ্রুং, পশ্চিম চর দ্রুং ও কসাইপাড়া এলাকা দিয়ে সমুদ্রের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই দুর্যোগের পর কুতুবদিয়ায় বিশাল সরকারী সাহায্য এসেছে বলে জানান কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী। তিনি তার বক্তৃতায় এই দুর্যোগে এমপি আশেকের ভূমিকার ব্যাপক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১১০ টি সাইক্লোন শেল্টারে অসংখ্য লোককে নিয়ে আসা হয়ে ছিল বলেও জানান তিনি। কুতুবদিয়ার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়- ইতোমধ্যে ডি-ফরমের মাধ্যমে ক্ষতির সামগ্রীক ব্ষিয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে। এখানে ৬ টি ইউনিয়নে খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৩০ হাজার, বেশী ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা সাড়ে ১২ হাজারের মতো। আহতের সংখ্যা ৩৪০ জন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা খুব বেশী, বেশী ও আংশিক হিসেবে যথাক্রমে ৩,৬৯০, ১,৭৯০ ও ২,৩৬০ টি। সম্পূর্ণ বিধস্ত বাড়ির সংখ্যা ২,৯৭০ টি। সুত্র, কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...