প্রকাশিত: ২১/০৫/২০১৭ ৮:১০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৫১ পিএম

উখিয়া নিউজ ডটকম :
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার মধ্য বিরাজমান প্রায় ২৭১ কি:মিটার সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে শরনার্থী আগমন প্রবাহ অব্যহত রয়েছে। বিগত ৪০ বছরে এ ধরনের অন্তত ৩ থেকে ৫লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রবেশ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলা তথা উখিয়া ও টেকনাফে এ প্রবনতার বেশী। ফলে এখানকার সাধারন লোকজনের পাশাপাশি অন্তত ২০ শতাংশ শিশু চরম স্বাস্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টার পরও এখানকার আর্থ সামাজিক অবকাটামোগত সব অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে এসব রোহিঙ্গারা।উখিয়া নিউজ ডটকম
ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আন্ত: প্রবাহ নতুন নয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা অন্ত: প্রবাহের প্রকোপ সম্প্রতি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এধরনের অতিরিক্ত শরনার্থী আন্ত: প্রবাহের চাপের কারনে কক্সাবাজারের ভঙ্গুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাটামোগত অবস্থানের ক্রমাবনতি ঘটছে। ১৩ মে ইউনিসেফের প্রকাশিত “বাংলাদেশের মানবিক অবস্থা” সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে গত বছরের অক্টোবরের সহিংসতার পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত ৭৪ হাজার মিয়ানমার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিপুল জনসংখ্যা ও বহুবিধ অপুষ্টিতে ভোগা অসংখ্যা শিশুদের নুন্যতম অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বাংলাদেশ রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। তদুপরি বিগত ৪০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বা অনিবন্ধিত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ও অবস্থানকক্সবাজার সহ সংলগ্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য অর্জনের সূচককে ম্লান করে দিচ্ছে।
কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ক্রম বৃদ্ধি ও অব্যহত আন্ত: প্রবাহের ফলে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে ঝুাঁকিও বাড়ছে। সম্প্রতি নতুন ভাবে অনুপ্রবেশকারী ৭৪ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ৫৭শতাংশ শিশু। তৎমধ্যে ৫১ শতাংশ নারী ও ৪৯ শতাংশ পুরুষ শিশু। ইউনিসেফ প্রাথমিক ভাবে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া ২০ হাজার ৯৭৯ জন শিশুর মাঝে মা-বাবা বা অভিবাবকহীন ১৪৯জন শিশুকে সনাক্ত করেছে। এতে ১০জনকে তাদের পরিবারের সাথে পুনঃ একত্রিত করা হয়েছে। উল্লেখিত শিশুদের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৬০৩ জন শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতি সংঘের এ সংস্থা। এখানকার ৭ লক্ষ ৮ হাজার ৭৪৩জন লোকের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ ৩লাখ ৫৪ হাজার ৬০২জন শিশুকে চরম ঝুঁকি থেকে রক্ষ করতে ব্যাপক মানবিক সহায়তার জরুরী প্রয়োজন মনে করছে ইউনিসেফ।উখিয়া নিউজ ডটকম অপর্যাপ্ত ও সীমিত ওয়াশ সুবিধার পাশাপাশি শিশু বিবাহ, শোষন, শিশু অপরাধ, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমের মত চরম ঝুঁকি থেকে দ্রুত উত্তরণ ঘটা আবশ্যক। অন্যথায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগের পাশাপাশি কক্সবাজার অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা চরম মন্দা কবলিত বিদায় শিশু সংশ্লিষ্ট সকল সুচকে দ্রুত বিপর্যয় নেমে এখানকার অধিকাংশ লোক বিশেষ করে নারী ও শিশুরা অরক্ষিত হয়ে পড়বে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত

রামুর ফতেখাঁরকুলে উপ-নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে প্রচারনায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী

রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি ৩ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া ...

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ দুদকের মামলা

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ স্পেশাল ...