জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ
প্রকাশিত: ২২/০৭/২০২৬ ১০:৩৮ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে সরকারী জমি ও ভবন দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দিনদুপুরে জনসমুক্ষে সরকারী ভবন ও জমি দখলে নিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দখলদাররা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা হওয়ায় কারণে-অকারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। সরকারী জমি ও ভবন এভাবে দখলে নেওয়ায় জমি দাতার ওয়ারিশান এবং স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টিতে চরম দু:খ প্রকাশ করেছেন। তারা জরুরী ভিত্তিতে সরকারী জমি এবং ভবন দখলমুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারী জমি এবং ভবন দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয় সুত্র জানায়, উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমুরাপাড়া এলাকায় একটি সরকারী কমিউিনিটি সেন্টার রয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে কমিউনিটি সেন্টারটি ব্যবহার না করায় অনেকটা ঝরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কালের সাক্ষী সরকারী জমিতে নির্মিত ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অনেক বছর ধরে। খোঁজ নিয়ে গেছে, দেশ বিভক্তির পরে কমিউিনিটি সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তখনকার আমলের ইউপি মেম্বার আলহাজ¦ মো: ইসমাইল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা প্রশাসক বরাবরে ৮শতক (২৪ কড়া) জমি দানপত্র প্রদান করেন। দানপত্র প্রদানকারী মেম্বার মোহাম্মদ ইসমাইল নাটমুরাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে বলে স্থানীয় লোকজন সুত্রে জানাগেছে। দানী সুত্রে পাওয়া উক্ত জমিটি ইউনিয়নের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বলেই তৎকালীন আমলের সরকার ওই জায়গাটিতে ১টি ইউনিয়ন কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করেন। যেটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস তথা গণস্বাস্থ্য অফিস হিসেবে কাগজে কলমে চুড়ান্ত থাকলেও ইউনিয়নের প্রায় সব লোকজনের কাছে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে বেশ সমাদৃত ছিলো। ভুমি অফিসের তথ্যানুযায়ী দিয়ারা ২নং খতিয়ানের ১২২০২নং দাগের ০৮০০ শতক জমিটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে খতিয়ান চুড়ান্ত আছে। খতিয়ানে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস/গণস্বাস্থ্য অফিস বলে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় মুরব্বী আব্দুস সোবহান জানান, পাক আমলে তার বাপ-চাচারা তথা চাচা ইসমাইল মেম্বার জমিটি সরকারের নামে দানপত্র প্রদান করেন। পরবর্তীতে দানকৃত উক্ত জমিতে সরকার ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করেন। বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনটি দাতার স্বজনরা দেখভালো করে আসলেও হঠাৎ বিএনপির ছেলে বেলেরা অন্যায়ভাবে দখলে নিয়েছেন। নাটমুরাপাড়া এলাকার ইসমাইল গণি জানান, ইসমাইল মেম্বার কর্তৃক দানকৃত জমিতে কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছিল। যা এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে কিছু মানুষ জমিটি ঘেরাও করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন জানিয়ে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই এলাকার মোহাম্মদ হোছন ও মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমাদের দাদারা সরকারকে এই জমি দান করেছিলো। পরিত্যক্ত এই জমি ও ভবন সরকারের। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কিছু পাবলিক কমিউনিটি সেন্টারটি দখল নিয়েছে। সরকার এখানে ডাক্তার খানা বা অন্যকিছু করতে পারেন এমন দাবি জানিয়ে তারা সরকারের এই জমিটি জনহিতকর কাজে ব্যবহার করার দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় দানপত্রের শর্তানুযায়ী দানী ব্যাক্তির ওয়ারিশানরা ভোগ দখল করবেন। জমিদাতার ছেলে প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার জাফর আলম চৌধুরী জানান, সরকারের ব্যবহারের জন্য জমিটি দান করেছিলেন তাঁর বাবা। দানকৃত এই জমি সরকারের অধীনেই থাকবে। অন্যথায় জমি এবং পরিত্যক্ত ভবনটি ওশারিশানরা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। অন্য কেউ এই জমি দখলের কোন সুযোগ নেই জানিয়ে বহিরাগত কাউকে তাঁর বাবার দানকৃত জমি দখলে না নিতে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন প্রবীণ এই বিএনপি নেতা। এদিকে কমিউনিটি সেন্টার দখলের বিষয়ে জানতে স্থানীয় যুবদল নেতা নুর হোসনের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলার আহবায়ক সায়েম সিকদার বলেন, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে নাটমুরাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন কমিউনিটি সেন্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। তৎকালীন ইউপি মেম্বার মো: ইসমাইল ভবনের জন্য জমিটি দান করেন। সে সুবাধে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্টিত হয়েছিল। যা আজ পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। তিনি আরো বলেন, একটা সরকারী কমিউনিটি সেন্টার; যেটা ডিসির তত্ত্বাবধানে থাকে। সেখানে অবৈধভাবে জবরদখল করা মোটেও সমীচীত নয়। সেটা যেই হোক। সরকারী দলের হোক বা বিরোধী দলের হোক। সরকারী জমি যথাযথ নিয়ম মেনেই তাদেরকে নিতে হবে। এরপরই সেখানে ব্যাক্তিগত ভাবে মুরগীর ফার্ম করুক বা অন্যকিছু করুক সেটা তাদের ব্যাক্তিগত বিষয়। এখন যে প্রক্রিয়ায় তারা যা করেছে তা অন্যায়। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারী সম্পত্তির লিজ দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। তবে পরিত্যক্ত ভবনটি মাদকের আস্তানায় পরিণত হতে যাচ্ছে বিধায় সরকারী সম্পত্তি যাতে বেদখল হয়ে না যায় সে জন্য সব কিছু বিবেচনা করে স্থানীয় যুবদল কর্মী নুর হোসনকে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থাপনার কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। তবে ইউপি সচিব মো: নুরুল হুদা জানান, স্থানীয় এক ব্যাক্তিকে নামেমাত্র চুক্তির আলোকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদক অভয়ারণ্য যেন না হয় বা ভবিষ্যতে কেউ যেন জমিটি দখল করতে না পারে সে জন্য আমরা ওই লোকের আন্ডারে দিয়েছি। তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে,পরিষদ নিয়মিত সভার মাধ্যমে সকলের সম্মতিক্রমে কেবল এক বছরের জন্য লিজ দিতে পারেন। তবে এটি অবশ্যই বাজেটে অন্তুর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া পরিষদের রাজস্ব খাতে উক্ত টাকা জমা করতে হবে। অন্যথায় এটি সম্পুর্ণ অস্বচ্ছ এবং বেআইনী বলে পরিগণিত হবে। সরকারী জমি ও ভবন দখলে নেওয়ার বিষয়টি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.অনীক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সরকারের জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

 

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের উদ্যোগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...

রোহিঙ্গা খাদ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর হরিলুট!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জেনারেল ফুড এসিস্ট্যান্ট (জিএফএ) কার্যক্রমের আওতায় মানবিক ...