
কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে একটি ডিও (D.O.) পত্র পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরী এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। ফলে নগরীর জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং নাগরিক সেবার পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পৌরসভা সীমিত জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নগর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে, যা ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও পর্যটন কার্যক্রমের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা সময়োপযোগী ও যৌক্তিক হবে বলে মত দেন তিনি।
এ প্রস্তাবের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো এক পত্রে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী গত ৬ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা সফরের সময় কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছিলেন।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত পাঠানোর নির্দেশনা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এখন স্থানীয় সরকার বিভাগকে জনসংখ্যা, আয়তন, রাজস্ব, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং বিদ্যমান আইনগত কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হলে নগর পরিচালনায় অধিক আর্থিক বরাদ্দ, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে সিটি করপোরেশন ঘোষণার আগে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন, সীমানা নির্ধারণ, আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুত্র, বে ইনসাইট


পাঠকের মতামত