প্রকাশিত: ৩১/০৩/২০১৮ ৯:৫৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:৪৬ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবসেবার ব্রত নিয়ে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হল্টের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে ভালোবেসে জীবনের প্রায় পুরো সময়ই এখানে কাটিয়ে দিয়েছেন লুসি হল্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে। বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন চার্চে বসবাস করে লুসি হল্ট এখন কাজ করে যাচ্ছেন দুস্থ শিশুদের কল্যাণ ও সেবায়।

১৯৬০ সালে মাত্র উনিশ বছর বয়সে বাংলাদেশে আসা লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট জড়িয়ে পড়েন এদশের আলো বাতাস, প্রকৃতি আর মাটি ও মানুষের মায়ায়। একাত্তরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন জীবনের কথা না ভেবে। জীবন সায়াহ্নে এসেও কাজ করছেন মানব কল্যাণে।

১৯৭৩ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিবকে কিছু উপহার সামগ্রিসহ একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভিনদেশী লুসি হল্ট। বাংলায় লেখা সেই চিঠিতেও ছিলো এই দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর প্রগাঢ় অনুভুতির কথা। চিঠি পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন বঙ্গমাতা। প্রতি উত্তরে তিনি ধন্যবাদও দিয়েছিলেন লুসি হল্টকে।

জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব না পাওয়ার অতৃপ্তি নিয়েই বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন লুসি হল্ট। অবশেষে পূর্ণ হলো সেই পরম চাওয়া। গণভবনে তার লুসি হল্টের হাতে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সনদ তুলে দিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লুসি হল্টের নাগরিকত্ব চাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতে গত ১২ই ফেব্র“য়ারী আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আনুষ্ঠানিক এই স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন থেকে দ্বৈত নাগরিকের সুবিধা ভোগ করবেন বর্ষিয়ান এই সমাজসেবি।

এর আগে, গত ৮ ফেব্র“য়ারি বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ১৫ বছরের জন্য ভিসা ফি মুক্ত পাসপোর্ট নেন লুসি। সে সময় তাঁকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

লুসির হল্টের জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন্সে। বাবা জন হল্ট ও মাতা ফ্রান্সিস হল্ট। দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন লুসি হল্ট। যশোর ক্যাথলিক চার্চে সেসময় কাজ করতেন তিনি। এরপর ২০০৪ সালে যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। ভিনদেশী এই মানবসেবীকে নাগরিকত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ।

পাঠকের মতামত

জাতিসংঘে আলোচনা নয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তার তাগিদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাধান আসবে না, মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতদের। ...

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড ...

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...