ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০২৬ ১১:৫৪ এএম , আপডেট: ২৫/০৮/২০২৬ ১২:৩১ পিএম

রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম/ছবি: আইএসপিআর থেকে পাওয়া
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘Challenges of Rohingya Repatriation: International Politics and National Priorities’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে গ্রহণ করা রোহিঙ্গাদের এই দায় গত নয় বছরে বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান বোঝায় পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এসব ক্যাম্পে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

তিনি জানান, ক্যাম্পগুলোতে ছয় থেকে ১১টি পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতায় দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালের রোহিঙ্গা সংকট এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকের রোহিঙ্গা আগমন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে সমাধান হয়েছিল। এতে প্রমাণ হয়, ধৈর্য ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি ফল বয়ে আনতে পারে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে মানবিক দায়বদ্ধতা, জাতীয় স্বার্থ এবং নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলা করছে।

এ সময় তিনি সরকারের ছয় দফা কৌশলগত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরা; চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা; মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে দ্বৈত পর্যায়ে সম্পৃক্ততা; রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার; পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আসিয়ান-ওআইসিকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া।

সেমিনারে তিনি ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে যাচাইয়ের ঘোষণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এটিকে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান গণহত্যা মামলা মোকাবিলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তবে এটি প্রকৃত প্রত্যাবাসনের আন্তরিকতার প্রতিফলন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো প্রত্যাবাসন। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে মানবিক বিবেচনা ও নিরাপত্তা-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে সরকার এ সংকট মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সক্রিয় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা ফেরানোর উদ্যোগ ...

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই ...

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনহাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে না, ঢাকাকে জানাল ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ...

রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার ...

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে এআই

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। মিয়ানমার সীমান্ত সিলগালা করতে ...
Single Page Footer