প্রকাশিত: ৩০/০১/২০২১ ১০:২৯ এএম
ফাইল ছবি

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ভাসানচরের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গত প্রায় সাড়ে তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাও তাদের দেশে ফিরে যাননি। মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে কাজ করে গেলেও মিয়ানমার সরকার নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করছে।

করোনা মহামারি এবং তাদের দেশে নির্বাচনের কথা বলে প্রায় একবছর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার টেবিলেও বসেনি মিয়ানমার। ফলে অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য, যার মাসুল দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় একটি বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে একটাই মাত্র পথ। তা হলো রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন। আর তা যদি বিলম্বিত হয় তাহলে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই বাংলাদেশের জন্য বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গাদের আয়বর্ধক কাজে নিয়োজিত করতে হবে বাংলাদেশের স্বার্থেই। কারণ, দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় থাকলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক সমস্যাসহ নানা ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তারা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে পারে যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ঘন ঘন নবজাতক জন্ম নেয়। বেকার সময় কাটানোর জন্যই এমনটা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গত এক মাসে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গা পরিবারে ৯টি নবজাতক জন্ম নিয়েছে এবং আরো শতাধিক মহিলা অন্তসত্ত্বা অবস্থায় আছেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরে আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সরকার। আবাসনের পাশাপাশি সেখানে তাদের খাওয়া-দাওয়া, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ সব ধরনের মানবিক সুযোগ-সুবিধাই নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে তিন দফায় ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদেরকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করার জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, উখিয়া টেকনাফের ক্যাম্পগুলোর তুলনায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা থাকায় ভাসানচরে তারা স্বাচ্ছন্দ্যেই দিন কাটাচ্ছেন। তবে তারা এভাবে শুয়ে বসে দিন কাটাতে চান না। তারা কাজ করতে চান। সম্প্রতি ভাসানচর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই স্বউদ্যোগে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে রোজগার করছেন। শিবিরের পাশে প্রধান সড়কে ছোটখাটো একটি অস্থায়ী বাজার আছে। সেখানে শাকসবজি, মাছ, মুরগি নিয়ে বসেছেন অনেকে। কেউ কেউ মোবাইল ফোন মেরামত, জিলাপি তৈরি ও পান সিগারেট বিক্রি করছেন। গৃহস্থালী সামগ্রী, কাপড়চোপড়, জুতা স্যান্ডেলের দোকানও আছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা ইত্তেফাককে বলেন, সবসময় অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঠিক না। আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে আয়-রোজগার করে সংসার চালাতে চাই। জিলাপি ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী বলেন, ‘কক্সবাজারের ক্যাম্পে ব্যবসা করতে পারতাম না। ১০০ টাকা বিক্রি করলে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হতো। কিন্তু ভাসানচরে কাউকে চাঁদা দিতে হয় না।’ পান-সিগারেটের দোকানি এমরান হোসেন বলেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পে কোনো কাজ করতাম না। ভাসানচরে আসার পর ১০ হাজার টাকা খরচ করে এই দোকানটা দিয়েছি। রোজ ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয়। মোবাইল ফোন মেরামতকারী আলম জানান, রোহিঙ্গাদের প্রায় সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ফোন মেরামত করে আয় রোজগার ভালোই হয়।

মোহাম্মদ নাসিম নামে এ ক্যাম্পের এক বাসিন্দা বলেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পে কাজ পাওয়া দূরের কথা, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশও ছিল না। কিন্তু ভাসানচরের পরিবেশ অনেক ভালো। আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক ভালো আছি। কিন্তু আমরা কাজ চাই। বেকার জীবন খুব লজ্জার। লোকজনকে পরিচয় দিতে পারি না।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অভিজ্ঞতা না থাকায় এখনই ভাসানচরের রোহিঙ্গাদেরকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ ছাড়া আর কিছু তারা খুব একটা জানেন না। ভাসানচরের মাটিও কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত না। রোহিঙ্গাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নানা ধরনের হাতের কাজে দক্ষ করে তোলা হবে। ভাসানচরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার ইমতিয়াজউদ্দিন মোহাম্মদ সাবির ইত্তেফাককে বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাজের ব্যাপক আগ্রহ দেখছি। আমরা আগ্রহী নারী-পুরুষদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব, যাতে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদেরকে হস্তশিল্পসহ নানা কাজে নিয়োগ করা যায়। সুত্র: ইত্তেফাক

পাঠকের মতামত

স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫৪

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ...

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...
Single Page Footer