প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০১৬ ১০:০৬ পিএম

শ.ম. গফুর, উখিয়া::

দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি শ্রমিকের আড়ালে ইয়াবা বহনের কাজে জড়ান ছৈয়দ কাশেম প্রঃ লেইঙ্গা। সে উখিয়ার পাশ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত জহির ড্রাইভারের পুত্র। সূত্রে জানা গেছে এক সময়ের ছিচকে চোর ছৈয়দ কাশেম গত কয়েক বছর ধরে গাড়ি শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত ২/১ বছর এর মধ্যে পরিচিত গাড়ির শ্রমিক-সহকর্মীর প্ররোচনায় টেকনাফের কয়েকজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ীর ইয়াবা বহন, পাচার ও নিজেও ব্যবসায় জড়ান। বিশ্বস্থতার সুযোগে ইতিপূর্বে আরো একটি ইয়াবার চালান আত্মসাৎ করলেও পরে সমঝোতায় গিয়ে পুণঃ গাড়ি শ্রমিকের কাজে যোগ দেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অপর গাড়ি শ্রমিকের কথায় প্রলুব্ধ হইয়া ইয়াবা বহন করে আসছিলেন। ধারাবাহিক গত ১ সপ্তাহ আগে টেকনাফের এক গাড়ির শ্রমিক ও ব্যবসায়ী আদ্যক্ষর “র” এর নিদ্দিষ্ট হারে কমিশনের ভিত্তিতে ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবার একটি চালান টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পৌছে দেওয়ার বিশ্বাসে গাড়িতে উঠলেও পথিমধ্যে নেমে যান ছৈয়দ কাশেম। বেঁধে দেওয়া সময়ের গন্তব্য স্থানে ইয়াবার চালান বুঝিয়ে না দেওয়ায় ৩ দিন পর ছৈয়দ কাশেমকে খুঁজতে ঐ ব্যবসায়ী চক্র বালূখালী, কাস্টম্স ও ঘুমধুম এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের নিকট কানাঘুষা করে বলতে গিয়ে ইয়াবার চালান গায়েব ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী চক্র ছৈয়দ কাশেমকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়ায় চাঞ্চল্য সৃস্টি হয়েছে। সূত্রে আরো জানা গেছে, ছৈয়দ কাশেম কর্তৃক গায়েব করা ইয়াবা কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জনৈক মোজাফ্ফর এবং ছৈয়দ কাশেমের ভাই বোন, ভগ্নিপতি ও পুত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে ঘুমধুমের একাধিক আত্মীয়ের বাড়িতে ইয়াবা সেবনের আসর বসিয়ে আমুখ ফুর্তিতে মেতে উঠে। গায়েব করা ইয়াবা ছৈয়দ কাশেমের এক ফুফাত ভাইয়ের সহযোগীতায় স্থানীয় কিছু দালাল চক্রকে ভাগ বন্টন দিয়ে ম্যানেজও করেছে। যাতে ইয়াবার মালিক পক্ষের রোষানল থেকে আপতত রক্ষা পেতে। ছৈয়দ কাশেম এক সময়ের পেশাদার চোর। দোকান পাট বাসা-বাড়িতে হানা দিয়ে হাড়ি-পাতিল, কাপড়-চোপড় ও মুদি মালামাল চুরি করে শালিস বিচারের অহরহ অভিযোগ ও বান্দরবান একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে এলাকাবাসী জানান। গাড়ি শ্রমিক উকিল ড্রাইভার, শামশু ড্রাইভার ও ফরিদ ড্রাইভার জানান, ছৈয়দ কাশেম ইয়াবা বহন কালে গায়েব করার একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে। পালংখালী ইউপির ১ ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, টেকনাফ থেকে ফোন করে আমাকে বলা হয়েছিল। আমি ইয়াবা সংক্রান্ত শালিসে বসিনা বলে প্রত্যাখান করি। এ ব্যাপারে ছৈয়দ কাশেমের হাত ফোন ০১৮৫৯২২৯৪৮৪ কল করে জানতে চাইলে এ বিষয়ে পার্টিদের সাথে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম। পরবর্তী শ্রমিক অফিসে ফায়সালা হবে। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের আইসি মোঃ এরশাদুল্লাহ জানান, টেকনাফের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান গায়েব করে ছৈয়দ কাশেম নামক এক ব্যক্তি লাপাত্তা বলে শুনেছি।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এলেন আরও ৫৯ সেনা-বিজিপি সদস্য

আরাকান আর্মির হামলার মুখে ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশের ঘুমধুম সীমান্ত ফাঁড়ির ...