ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৫/০৮/২০২৬ ৪:৫১ পিএম
বাংলাদেশের কক্সবাজার শহরের কাছে এক শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টাসর্

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সমর্থিত সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই করা এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

m

মিয়ানমার জানিয়েছে, তালিকায় থাকা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে মিয়ানমার ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে দাবি করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে তারা।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ের সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পনা ও সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে।

মিয়ানমার অবশ্য রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যাওয়া অভিবাসী হিসেবে দাবি করে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৮ সালে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়। ফলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই নতুন করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সংঘাতের কারণে আরও রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।

বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

তবে সে সময় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি মূলত মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের নিয়ে এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার খবর তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

ফলে বাংলাদেশে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সর্বশেষ ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও কবে এবং কীভাবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা কী হবে—এসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।

সূত্র: এপি

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের সম্মতি: ফিরছে ৩ লাখ রোহিঙ্গা, মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন এক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার ...

UNHCR কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীকে ...

পারিবারিক মামলার শুনানি শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল উখিয়ার রুবিনা ও শাহীনাসহ ৩ জনের

সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার ...
Single Page Footer