উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ৬:৫৫ পিএম

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থামছে না। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বাড়িঘর, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ধর্মীয় ভবন এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের শিবির লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলার ঘটনায় মৃত্যু, আহত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম)।

আইআইএমএমের তদন্তে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্যারামোটর ও ড্রোনের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য হামলার আগাম সংকেত শনাক্ত করা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে হামলার আগে পালিয়ে যাওয়া বা নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়েছে। তদন্ত ব্যবস্থাটি এসব হামলার জন্য দায়ী কিছু সামরিক ইউনিটকেও চিহ্নিত করেছে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী পরিচালিত আটককেন্দ্রগুলোতে নির্বিচার আটক, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ব্যাপক প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে আইআইএমএম।

এর মধ্যে নির্বাচনের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ২০২৫ সালের আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাও রয়েছে।
ওই আইনের আওতায় অসংখ্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য পোস্ট করার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তবে আইআইএমএমের তদন্ত কেবল মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সামরিক বাহিনীর বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা কথিত নৃশংসতার অভিযোগও তদন্ত করছে সংস্থাটি।
আইআইএমএম জানিয়েছে, তাদের তদন্ত ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি উৎস থেকে পাওয়া প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ৭৫০টিরও বেশি সাক্ষীর বিবরণ, ছবি, ভিডিও, অডিও, নথি, মানচিত্র, ভূ-স্থানিক চিত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট এবং ফরেনসিক প্রমাণ।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করা কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে প্রমাণ ও বিশ্লেষণ ভাগ করে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে আইআইএমএম। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আর্জেন্টিনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘটিত অপরাধের তদন্তকারী অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও সাড়া দিচ্ছে তদন্ত ব্যবস্থাটি

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের সম্মতি: ফিরছে ৩ লাখ রোহিঙ্গা, মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন এক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার ...

UNHCR কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীকে ...

পারিবারিক মামলার শুনানি শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল উখিয়ার রুবিনা ও শাহীনাসহ ৩ জনের

সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার ...
Single Page Footer