প্রকাশিত: ১৭/০৬/২০১৭ ৮:১০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:২৩ পিএম

পূর্বপশ্চিম::

দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত সাংসদ আব্দুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে শোনা যাচ্ছে। বদি মনোনয়ন না পেলে কে হচ্ছেন বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি তা নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানান গুঞ্জন। বেশ কিছুদিন ধরে কক্সবাজারের পত্র-পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসে প্রবীণ দুই সাংবাদিক তোয়ায়েল আহমদ ও শামসুল হক শারেকের নাম।

এ আসনের মনোনয়ন পেতে প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ।

এছাড়া প্রবীণ সাংবাদিক শামশুল হক শারেক মনোনয়নের দৌড়ে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে। শারেক এক সময় ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জানা যায়, শারেক ১৯৮৭-৮৮ কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি পূর্বপশ্চিমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও মগনামা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী।

তবে শারেকের দাবি তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি সম্প্রতি সময়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি’ বলেও দাবি করছেন শারেক। এমনকি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তার। মনোনয়ন পেতে তিনি জোর লবিং শুরু করেছেন।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদির অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য দুদকের করা মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় প্রার্থী হতে পারছেন না সেটা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবার তার বিরুদ্ধে মানব পাচার, ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও সাংসদ বদি সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ঠিকদার ও আইনজীবীসহ অনেককে মারধর করে সারা দেশে ব্যাপক সমালোচিত হন। এ জন্য সাংসদ বদিকে নিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।

গত ২ জুন শুক্রবার কক্সবাজার জেলার টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক দিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে একহাত নেন। বদিকে উদ্দেশ্যে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই দুইবার এমপি হইলা। কিন্তু সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ঠিক করতে পারলা না। জনগণের এই ভোগান্তির জন্য তোমার শিক্ষা পাওয়া উচিত। আর যাই হোক তোমাকে আগামিবার আর নমিনেশন দেয়া হবে না। দলের সাধারণ সম্পদক ঘোষণা দেয়ার পর এমপি বদির ভাগ্যে মনোনয়ন জুটছে না এটা আরো নিশ্চিত হন এ এলাকার মানুষ।

কক্সবাজারের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন সমাজ সচেতন ব্যক্তি। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি। তার পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একজন সংগঠক। ১৯৭৭ সালে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই তিনি শুরু করেন সাংবাদিকতা।

১৯৭৮ সালে তদানীন্তন বর্মা (মিয়ানমার) সরকারের রোহিঙ্গা বিতাড়নের ‘ড্রাগন অপারেশনের’ শিকার হয়ে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার সময় থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মিয়ানমার-বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা, এতদঞ্চলের জঙ্গি উত্থান, সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার বিষয়ক অনেক দুঃসাহসিক রিপোর্ট তিনি করেছেন। রোহিঙ্গা, জঙ্গি ও ইয়াবা পাচার নিয়ে তিনি বরাবরই সোচ্চার। বিভিন্ন কারনে সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ বার বার বিড়ম্বনার মুখেও পড়েছেন।

এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০২ সালে সাংবাদিক তোফায়েল আহমদকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও জড়িয়ে ফেলে। এ সময় দীর্ঘ দিন ধরে ঘর ছাড়া থাকতে হয় তাকে। ওই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত। জঙ্গি উত্থান ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বানোয়াট খবর পরিবেশনসহ বিদেশে তথ্য পাচারের মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা এই মামলা থেকে পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।

কক্সবাজারের একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসাবে এবং সীমান্তবর্তী সংসদীয় আসন উখিয়া-টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার কারণেই হয়তোবা আসন্ন নির্বাচনে তাকে নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এমন আলোচনা এজন্যও হতে পারে-তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫৮ সাল থেকে নানা সময়ে কক্সবাজারে আগমনসহ নানা স্মৃতি নিয়ে লেখালেখি করেছেন।

১৯৫৮ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে আইউব খানের সামরিক শাসনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী চেনছড়ি আদিবাসী পল্লীর প্রয়াত ফেলোরাম রোয়াজা চাকমার খামারে ‘অজ্ঞাত বাসে’ ছিলেন। সেই অজানা কাহিনী ২০০৯ সালে জনকণ্ঠ এবং ২০১০ সালের ১৭ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল। জাতির জনকের এই অজানা কাহিনী প্রকাশের পর সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ বেশ আলোচনায়ে আসেন।

উখিয়া-টেকনাফে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তরফে প্রার্থী হিসাবে নানাভাবে আলোচনার বিষয়টিকে সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে পূর্বপশ্চিমকে বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে হয়তোবা ধারণা জন্মেছে যে এমপি বদির মত একজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বলার মত লোকের অভাব রয়েছে। কিন্তু আমিতো বলার মানুষ নই। আমি বরাবরই সংবাদের মানুষ। সংবাদ মাধ্যমেই আমি সোচ্চার থাকতে চাই।

তিনি বলেন, এলাকার রাজনীতিবিদরাই রাজনীতি করবেন। তারাই নির্বাচন করবেন চেয়ারম্যান-এমপিতে। আমিতো ছাপোষা একজন পেশাজীবী মাত্র। রাজনীতির সাথে আমি জড়িত নই। তবে হ্যাঁ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দলটির সাথে আমার রয়েছে সখ্য। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক মহল যদি এই আসনটিতে প্রার্থী হবার সরাসরি প্রস্তাব দিয়ে বসে তখন কি করবেন-এমন জবাবে সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ বলেন, তখন পরিস্থিতিই সিদ্ধান্ত দেবে।

আর অন্যদিকে প্রবীণ সাংবাদিক শামশুল হক শারেক উখিয়া উপজেলার রত্নপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি এক সময় শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে তার দাবি বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি সম্প্রতি সময়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি’ বলে দাবি করছেন শারেক।

এছাড়াও শামশুল হক শারেকের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিকের সাথে খুব গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিছু দিন আগে এই উপদেষ্টার সাথে দেখা করেন শামশুল হক শারেক। তখন তিনি উখিয়া-টেকনাফের মনোনয়ন নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা হয় বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। শামশুল হক শারেক কক্সবাজারে এক জন দলীয় সাংসদের সাথে বেশ দহরম মহরম রয়েছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের। ওই সাংসদের সাথে প্রায় সময় ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগদান করে তিনি। তা ছাড়াও এ সাংবাদিকের সাথে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথেও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

যদি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পায় তাহলে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক শামশুল হক শারেক। তিনি বলেন, সম্প্রতি মনোনয়ন নিয়ে অনেক গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এ আসটি খুব গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য। যদি দলীয় হাই-কমান্ড থেকে যদি ইতিবাচক সাড়া পাই নির্বাচন করতে সমস্যা নেই। কারণ দলীয় মনোনয়ন এখানে বড় ফ্যাক্ট। সুত্র : পূর্বপশ্চিম

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...