প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০১৬ ৯:৫৪ পিএম

1472587566_98বরিশাল ॥ নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নাইমা ইব্রাহিম ঈশী (২১) নামের এক কলেজ ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় সায়েম আলম ওরফে মিমু নামের ঘাতক প্রতারক প্রেমিককে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ টানা পাঁচদিন অভিযান চালিয়ে ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। মিমুকে গ্রেফতারের পর থেকেই বেরিয়ে আসতে থাকে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার দুপুরে বিএমপির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ তথ্য প্রদান করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।

পুলিশ কমিশনার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভালবাসার সম্পর্ক ছিলো ঈশী ও মিমুর মধ্যে। প্রেমেরটানে ঈশী বরিশাল আসলে হোটেলে ফেয়ার স্টারে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার প্রেমিক। এসময় তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইনসহ টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক মিমু। এরপর আসামিকে গ্রেফতার করতে কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মগবাজার এলাকায় টানা পাঁচদিন অভিযান চালায়। সোমবার রাতে ওই এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি মিমুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতর বাসা ঢাকার ওয়ারী এলাকায়। আর হত্যার শিকার তরুনী ঈশীর বাড়ি নারায়নগঞ্জে।

সূত্রমতে, গত ৯ আগস্ট রাতে নগরীর ফলপট্টির আবাসিক হোটেল ফেয়ার স্টারের ৩০৯ নাম্বার কক্ষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে পরিচয় গোপন রেখে ভাড়া নেয় মিমু। পরে ওই কক্ষে কলেজ ছাত্রী ঈশীকে ধর্ষণ করে ১০ আগস্ট সকালে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে মিমু পালিয়ে যায়। পরে ওইদিন দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের দরজা ভেঙ্গে নিহত ঈশীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ব্যাংক কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত ঈশী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। ঈশী চলতি বছরের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় নগরীর সরকারী হাতেম আলী কলেজ থেকে পাশ করেছিলো।

মামলার তদন্তকারী অফিসার কোতোয়ালী মডেল থানার এস.আই মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, গ্রেফতারকৃত মিমুর কাছ থেকে ঈশীর মোবাইলের দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়ারী থানাধীন ৬০/১ যোগী নগর রোড এলাকার বাসিন্দা মোঃ সেলিম মিয়ার পুত্র সায়েম আলম মিমু গ্রেফতারের পর পুলিশকে জানিয়েছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে নাইমা ইব্রাহিম ঈশীর সাথে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তকারী অফিসার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত মিমু ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সর্ম্পক করে ইতিপূর্বে জান্নাত, রিয়া, রিমা, সুবর্না, তমা, সুরাইয়া, সুমাইয়াসহ ১৩জন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করেছিলো। ওইসব মেয়েদের ধর্ষন শেষে তাদের মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়াই ছিলো তার (মিমু) কাজ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তদন্তকারী অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাইদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আব্দুর রউফ প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশের বিভিন্ন ব্লকে সমন্বিত এক বিশাল যৌথ অভিযান ...

টেকনাফে জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পন্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা অবরুদ্ধ!

“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে ...

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গাইডলাইন অনুমোদন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (এলএসবিই) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইডলাইন উপস্থাপন ও অনুমোদনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ...

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...
Single Page Footer