প্রকাশিত: ২৩/০৪/২০১৭ ৭:০৮ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
জেলার উপকূলীয় এলাকার ৪১ টি ইউনিয়ন কম-বেশি দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এইসব এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রায় প্রতিবছরই ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। বিগত দুই বছরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলাকাগুলোতে প্রচুর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে লাখো মানুষ। উপকূলের ভাঙা-বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ওই শঙ্কাকে আরও বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার হিসেবে বিগত ২০১৬ সালে ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালে ঘুর্ণিঝড় কোমেনের কারনে মৃত্যু হয় ১৮ জনের। এছাড়াও বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। পানিতে তলিয়ে যায় ফসলি জমি, লবনের মাঠ। দীর্ঘদিন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে লাখো মানুষ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আব্দুর রহমান জানান, কক্সবাজার জেলায় ঘুর্ণিঝড়, আকষ্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, পাহাড় ধ্বস, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল, বজ্রপাত, নদী ভাঙন, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবনতা বেশি দেখা যায়। জেলার ৭১টি ইউয়িন ও ৪টি পৌরসভার মধ্যে ৪১টি ইউনিয়নই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ইউনিয়ন বেশি দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন রয়েছে ১৭টি। এইসব এলাকায় দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তিনি কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ওই সভায়। প্রস্তাবনাগুলো হলো, বিদ্যমান বেড়িবাঁধ সমূহ মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র সমূহ সংস্কার, দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ, বিদ্যমান স্লুইচ গেইট সমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার হিসেব মতে, চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে চারটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে তিনটি, কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ১২টি। পেকুয়া উপজেলায় সাত ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিতে রয়েছে বাকি দুইটি ইউনিয়ন। মহেশখালী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিতে রয়েছে তিনটি। কুতুবদিয়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, একটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে দুইটি ইউনিয়ন। কক্সবাজার সদরে একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়ন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং তিনটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি ইউনিয়ন। টেকনাফ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ইউনিয়ন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং তিনটি ইউনিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁকিতে রয়েছে দুইটি ইউনিয়ন। উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়ন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরেকটি ইউনিয়ন এবং কম ঝুঁকিতে রয়েছে তিনটি ইউনিয়ন।
সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এইসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায়। সবচেয়ে কম আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে রামুতে। সেখানে বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৩১টি। এছাড়াও চকরিয়ায় ৮০টি, পেকুয়ায় ৭১টি, মহেশখালীতে ৮৫টি, কক্সবাজার সদরে ৬১টি, টেকনাফে ৫৯টি ও উখিয়ায় ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ছাড়াও ২৫টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। সেখানেও লোকজন আশ্রয় নিতে পারে। সুত্র,দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...