প্রকাশিত: ০৩/০৭/২০১৭ ৪:০১ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:২৩ পিএম
সেই স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

রিয়াজুল হাসান খোকন, শামলাপুর থেকে::

সেই স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 
আজ ৩ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ ও পন্ড করে দিয়ে বাহারছড়ার সচেতন ও শিক্ষিত মহলের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন ও টেকনাফ সহকারী কমিশনার ভুমি তুষার আহামদ।
সূত্রে জানা যায়, ৩ জুলাই বাহারছড়ার শামলাপুর আচারবনিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হাজী মনছুর আলমের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাজমা আকতার লাকী (১৪) সাথে পার্শবর্তী উখিয়া মনখালী কোনার পাড়া গ্রামের হাজী নুর বসরের ছেলে সৌদি প্রবাসী নুরুল আমিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিস্তু এটি একটি নির্ঘাত বাল্য বিয়ে বিবেচনা নিয়ে নিজ দায়িত্ব হিসেবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম,এ মনজুর ব্যাপারটি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি, টেকনাফ নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ শিক্ষা অফিসার, এবং উখিয়া নির্বাহী অফিসার এবং গণমাধ্যমেকে অভিহিত করে। পরে গণ্যমাধ্যমে এ বিয়ে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা ভাইরাল হয়ে উঠে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশক্রমে এই বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য স্থানীয় শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাকসুদ আলম উক্ত ছাত্রীর মাতা হাসিনা আকতারকে নির্দেশ দেন, কিন্তু তিনি এ নির্দেশ অমান্য করে স্বাভাবিক ভাবে বিয়ের আয়োজন সহ অথিতিদের খাওয়া দাওয়া চালিয়ে যান। পরবর্তীতে আইন অমান্য করে এই বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেয়ে টেকনাফ সহকারী কমিশনার ভুমি তুষার আহমদের নেতৃত্বে প্রশাসন উক্ত বাড়িতে গিয়ে আইন রিরুধী এই বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন এবং মা হাসিনা আকতার থেকে একটি লিখিত মুছলেকা নেন যে যথাযথ বয়স না হওয়া পর্যন্ত লাকীকে বিয়ে দেবেনা। পরে লাকীকে স্কুল ড্রেস পরিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে শামলাপুর স্কুলে তার ক্লাস রুমে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সেখানে বাল্য বিয়ের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরে শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাকসুম আলম, নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার আহমদ, টেকনাফ শিক্ষা কর্মকর্তা, এবং উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম,এ মনজুর বক্তব্য রাখেন। অন্য দিকে আইন বিরুধী এই বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য উখিয়া উপজেলার উপকুলীয় এলাকা মনখালী কোনার পাড়ার বরের বাড়িতে যান উখিয়া উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন। উখিয়া উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। পরে এই বিয়ে বন্ধের জন্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরের পক্ষকে কঠোর নির্দেশ প্রধান করেন।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উখিয়ার ইউএনও মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন,সকালে ফেইসবুকে আপনার আইডি থেকে বিষয়টি আমার নজরে আসে। তারপর আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিয়ষটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি। পরবর্তীতে দুপুরে আমি নিজে উখিয়া উপজেলার মনখালীর কোনারপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী বর নুর আমিনের বাড়ীতে গিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার উপজেলার দু,কর্মকর্তা জনগনের অভিনন্দন ও প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন।। প্রসঙ্গত গতকাল ২ ই জুলাই জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল উখিয়া নিউজ ডটকমে “টেকনাফের শামলাপুরে ৯ম শ্রেনীর ছাত্রীর বিয়ে” শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...