প্রকাশিত: ০৫/০৬/২০১৬ ১০:০০ পিএম

spd 3~1জসিম মাহমুদ,টেকনাফ::

দেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ এর পর বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী। যা মিয়ানমারের সীমান্তে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় দেড়শ’ বছর আগে গড়ে উঠা এই দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ধান, মৎস্য, লবণ মাঠ, পানের বরজ-ই চরের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। গত কয়েক বছর ধরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এটি দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পূর্বে শাহপরীরদ্বীপের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১০ কিলোমিটার। বর্তমানে তা ছোট হয়ে দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৩ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এভাবে সাগরের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে শাহ পরীর দ্বীপের একের পর এক গ্রাম। ১৯৯৩-৯৪ এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বদর মোকাম সংলগ্ন সাগর তীরে বিশাল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার বেশ কিছু গ্রাম সাগর গর্ভে তালিয়ে যায়। বিগত বিভিন্ন সনে সরকার উক্ত এলাকার উপকূলীয় মানুষের জান মাল রক্ষার্থে একাধিকবার উপকূলীয় রক্ষাবাঁধ নির্মাণের বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করায় অদ্যাবধি শাহ পরীরদ্বীপের ভূখন্ড দিন দিন তলিয়ে ।টেকনাফ তথা পুরো দেশের সাথে এখন শাহপরীরদ্বীপ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তার উপর নৌকায় চড়েই মানুষকে চলাচল করতে হয়। জোয়ারের পানির তোড়ে তা আবার ভেসে গেছে। তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ আঘাত পেয়েছে শাহপরীরদ্বীপ। একদিকে বেড়িবাঁধ নেই। অন্যদিকে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উঁচুতেই প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে প্রায়  এলাকা এখন পানি নিচে। এদিকে স্থানীয়রা দাবী করেছেন, শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ইত্যাদির সেবা দেয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধটি যেন সংস্কার করা হয়। অন্যথায় দেশের মানচিত্র থেকে শীঘ্রই হারিয়ে যাবে শাহপরীরদ্বীপ।

শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া,মাঝের পাড়া,দক্ষিন পাড়া গ্রাম। এখানে তিন বছর আগেও ছিল এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। সেই সংখ্যা এখন দাড়ায় ২০০ থেকে কিছু বেশি।গত দুই একদিনের মধ্যে ১০০টি ঘরবাড়ী সগরে বিলিন হয়ে গেছে।

মাঝের পাড়া ঘরবাড়ী সগরে বিলিন হয়ে যায় তাদের মধ্যে এনাম উল্লাহ,আবদুসালাম-মিস্ত্রী,আদুশুকুর,সাবে,মতলব,মোহম্মদ, তৈয়ুব, সালাম,জয়নাব বেগম,আনুয়ারা বেগম,আবদু মালেক,আজিজ,জুহুরা বেগম,মোহাম্মদ আমিন সহ আরও অনেক। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন যাপন করছে।অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে  বসত গড়েছেন টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে। একই এলাকার গোলা পাড়া অবস্থাও করুণ।৭০ ঘরে বসবাস এই গ্রামে ছাত্র ছাত্রী জোয়ারে পানি কারণে স্কুলে যাতায়ত করতে পারছে না। এক সময় গ্রামের প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি চলে গেছে বঙ্গোপসাগরের পেটে। শাহপরীর দ্বীপে ভাঙন এখনো অব্যাহত বর্ষায় তো বটে, গ্রীষ্মেও ভাঙে এই এলাকাটি।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোছেন জানান, ২০১২ সালের ২২ জুন শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া,মাঝের পাড়া,দক্ষিন পাড়া গ্রাম এলাকার ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এর পর থেকে জোয়ার-ভাটা চলছে ওই এলাকায়। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ডাঙ্গরপাড়া ও উত্তরপাড়ার আরও আট শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬৫০ মিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিমপাড়ায় বেড়িবাঁধ নেই। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকছে জোয়ারের পানি। ওই এলাকার প্রায় বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিলীন হয়ে গেছে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপসড়কও।

শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৌ: নুর মোহাম্মদ বলেন, বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি,বসতভিটাও চলে যাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?’ সাগর এখন ঘরের কাছাকাছি চলে আসছে। জানি না সামনের বর্ষায় আমাদের কপালে কী আছে।

শাহপরীর দ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা আলী বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে দিন দিন শাহপরীর দ্বীপটি হারিয়ে যেতে বসেছে। বঙ্গোপসাগরের গ্রাসে  একহাজারের অধিক বসতবাড়ি ও অনেক ফসলি জমি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এই দ্বীপটি রক্ষায় সরকারকে এখনই এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। আজ দ্বীপ বাসী বড় অসহায়,বেড়িবাধ ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে দ্বীপটি। পশ্চিমপাড়ার, মাঝের পাড়ার অংশের প্রায় দুই কিলোমিটার সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ওই অংশের সংস্কার না হওয়ায় দুর্যোগের হুমকিতে আছে দ্বীপের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে এটি সংস্কার না করলে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় কেউ বসবাস করতে পারবে না ।

পাঠকের মতামত