উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১/১১/২০২৩ ৭:৪৮ এএম

রাজধানীর নিউমার্কেট থানার ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মো. আবু তাহের দাইয়া। চার বছর আগেই মারা যান তিনি। চার বছর আগে নিউমার্কেট এলাকায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলে মাথায় রক্তক্ষরণ হয়। এতে তিনি মারা যান। তবে মারা যাওয়ার চার বছর পর এক মামলায় আবু তাহের দাইয়াকে দেড় বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত। মৃত ব্যক্তিকে এভাবে সাজা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবু তাহেরের পরিবার। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবীও।

সোমবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ তাকে এ কারাদণ্ডাদেশ দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত তাহেরকে সাত হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৃত তাহেরের ছেলে এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাবা রাজনীতি করতেন। রাজনীতি করতে গিয়ে মাথায় অনেক আগে আঘাত লাগে। আঘাত লাগার কারণে তার একটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। চার বছর আগে নিউমার্কেট এলাকায় মাথা ঘুরে পড়ে যান। এতে মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যান তিনি। মারা যাওয়ার এত বছর পরে বাবাকে আদালত সাজা দিয়েছেন, এটা শুনে খারাপ লাগলো। একজন মৃত ব্যক্তিকে কীভাবে আদালত সাজা দেন আমার জানা নেই। এটা আমাদের মর্মাহত করেছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জাগো নিউজকে বলেন, ‘চার বছর আগে মারা যান আবু তাহের দাইয়া। আজ নিউমার্কেট থানার মামলায় তার দেড় বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একজন মৃত ব্যাক্তিকে আদালত কীভাবে সাজা দিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির হরতাল-অবরোধ চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় মামলায় হয়। ওই মামলায় এজাহারনামীয় সাত নম্বর আসামি ছিলেন আবু তাহের। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ২১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ মামলায় বিচার চলাকালীন চার বছর আগে তাহের মারা যান।

তবে মামলার বিচার শেষে আবু তাহের, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালসহ ১৪ জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দণ্ডবিধি ১৪৩ ধারায় আসামিদের ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। অপরদিকে দণ্ডবিধি ৩২৩ ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের কারাভোগ করতে হবে।

পুলিশের কাজে বাধা ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার বিএনপির সম্মুখসারির পাঁচ নেতাসহ ১৩৬ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সম্মুখসারির পাঁচ নেতার মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দুই মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ ১৩২ জনকে বিভিন্ন মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের পৃথক আদালত এসব মামলার রায় ঘোষণা করেন।

পাঠকের মতামত

বদি যদি আমাকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন, তাহলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবো

কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ...