প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০১৭ ১০:২৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৫৫ পিএম

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজারে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠা গরুর খামারীরা কোরবানীর ঈদে গরুর চাহিদা মিটাতে প্রস্তুত। তাদের দাবী জেলায় যে পরিমান গরু কোরবানী হয় তা স্থানীয় পর্যায়ে আছে তাই দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানী না করতে আহবান জানিয়েছেন তারা। খামারীদের দাবী গরু লালন পালনে কোন সরকারি সহযোগিতাতো মিলেই না বরং পদে পদে সহ্য করতে হয় নানা ঝক্কি ঝামেলার। নামে পশু পালনে সরকারি ভাবে অনেক সহযোগিতার কথা বল্লেও বাস্তবে তা নেই। কোন ব্যাংকে গেলে সহযোগিতা পাওয়া যায় না, আর খাদ্য সামগ্রী সহ সব কিছুর দাম এত বেশি যে লাভের মুখ দেখা খুব কঠিন। এছাড়া খামারকে কাগজে কলমে শিল্প বলা হলেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন নেই। স্থানীয় খামারীদের দাবী সরকার এই শিল্পকে প্রকৃত পক্ষে সহযোগিতা করলে আরো অনেকে এই পেশায় আসতে পারতে। এতে বেকারত্ব গুছতো, কর্মসংস্থান বাড়তো মানুষের উপকার হতো। একই মত দিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। তাদের দাবী স্থানীয় ভাবেই মিটানো যাবে কোরবানীর ঈদে গরুর চাহিদা।
কক্সবাজার শহরের সাবমেরিন ক্যাবল ষ্টেশন এলাকার ডেইরী খামারী আকতার কামাল বলেন আমরা দুজন মিলে গত বছর ছোট পরিসরে একটি ডেইরী খামার গড়ে তুলি এখানে বর্তমানে ৮/৯ টি গরু ও বেশ কিছু ছাগল আছে আর বর্তমানে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কিছু গরু কিনে সঠিক পদ্ধতিতে কিছুদিন মোটাতাজা করে কোরবানীর বাজারে বিক্রি করে কিছু বাড়তি আয় করার চিন্তা করেছি। আমরা মনে করি জেলায় যে পরিমান গরু কোরবানীর ঈদে জবাই হয় তা স্থানীয় পর্যায়ে আছে তাই বিদেশ থেকে কোন গরু আমদানি করার প্রয়োজন নেই। আর বাস্তবে পশু পালনে সরকার অনেক সহযোগিতার কথা বললেও সেটার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। এ পর্যন্ত প্রাণী সম্পদ অফিসের কোন কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছায় আমাদের খামার দেখতে আসে নি। আমরা খুব বেশি খবর দিলে তার পর আসে আর কোন ব্যাংক থেকে সহযোগিতা চাইলে তারা ও না করে দেয়। এ পর্যন্ত যা করেছি সব আমাদের নিজেদের অর্থায়নে। এখানে কর্মচারী, গরুর খাবার, ঔষধ সব কিছুর অনেক দাম সব মিলিয়ে খামার চালানো অনেক কস্ট জানি না কত দিন চালাতে পারবো।
নুরল আলম নামের আরেকজন বলেন যদি ভারত বা মায়ানমার থেকে গরু না আসে তাহলে দেশে কোন গরুর অভাব হবে না। বরং দেশীয় খামারীরা লাভবান হবে। আর গরু পালন কাগজে শিল্প হলেও বাস্তবে কোন সহযোগিতা আমরা পাই না। এমনকি প্রতি মাসে এখানে অনেক টাকা বিদ্যূৎ বিল আসে। সরকার যদি আমাদের ক্ষুদ্র শিল্প হিসাবে বিবেচনা করে কিছুটা সাশ্রয় দিত তাহলেও অনেক সুবিধা হতো। তার বিপরীতে আমাদের নানান ভাবে হয়রানী করা হয়। কোন দপ্তরে সহযোগিতা চাইলে তাও পাওয়া যায় না।
পিএমখালী ঘাটকুলিয়া পাড়ার রহমত উল্লাহ বলেন আমি কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কয়েকটি মহিষ এবং গরু কিনেছি সে গুলোকে এখন নিয়মিত পরিচর্যা করতেই অনেক টাকা খরচ হচ্ছে, বাজারে গুরুর পরিচর্যার ঔষধের দাম যে এত বেশি তা আগে জানা ছিল না, দোকানে ঔষধের দাম বাড়তি বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন সরকার প্রতিটি বিষয়ে ভ্যাট টেক্স বাড়িয়েছে তাছাড়া পরিবহণ খরচ ও বেড়েছে তাই সব কিছুর দাম বাড়তি। আর বর্তমানে আমার মত এলাকায় অনেকে গরু দেশীয় পদ্ধতিতে কিনে মোটাতাজা করছে এবং সবারই একটি উদ্দেশ্য কোরবানীর ঈদের বাজারে বিক্রি করে কিছুটা লাভ করা। তবে বিদেশ থকে গরু আমদানী করার ফলে আমরা তেমন লাভ করতে পারি না। সরকার দেশিয় খামারীদের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে গরু না আনলে তাহলে খুবই ভাল হয়। এছাড়া আমার মতে স্থানীয় খামারী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের উৎসাহিত করতে খাদ্য বা গরুর ঔষধ থেকে ভ্যাট টেক্স প্রত্যাহার বা কমানো দরকার। কারন কৃষি পন্যে যদি প্রনোদনা দিতে পারে তাদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে পারে তাহলে খামারীদের কেন পারবে না। এটা একটি দেশের জন্য উৎপাদন মুখি শিল্প।
রামু ফোলনিরচর এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন আমরা ৪ মাস আগে থেকে ২০/৩০ টি গরু কিনে সে গুলোকে লালন পালন করে বড় করছি উদ্দেশ্য কোরবানীর ঈদের বাজারে সে গুলো বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হওয়া। আমার মতো অনেকে এখানে গরু নিয়ে মোটাতাজা করছে। তবে আমাদের আশংকা প্রতি বছর কোরবানীর সময় পার্শবর্তি দেশ বার্মা এবং ভারত থেকে আমাদের দেশে প্রচুর গরু আসে তাই আমরা স্থানীয় খামারীরা লাভের মুখ দেখতে পাই না। আমাদের দাবী হচেছ দেশে যে পরিমান গরু দরকার স্থানীয় পর্যায়ে তার চেয়ে বেশি গরু আছে তাই বাইরের দেশ থেকে গরু আনার কোন প্রয়োজন নেই। বাইরের গরু না আনলে আমরা স্থানীয় চাষী বা খামারীরা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারতাম।
তবে ভিন্নমতও আছে রামু ফরিদুল আলম বলে কোরবানীর ঈদের প্রচুর গরুর চাহিদা থাকে সে অনুযায়ী দেশিয় গরু থাকে না, আর যদি থাকেও দেশিয় গরুর দাম অনেক বাড়তি হয়ে যায়। তাই বার্মা বা ভারত থেকে গরু না আসলে গরুর দাম অনেক বেড়ে যাবে তাই খামারীও যাতে বাঁেচ সে হিসাবে গরু বাইরের দেশ থেকে আনতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন কোরবানীর সময় কক্সবাজারে যে গরুর চাহিদা থাকে সেটা স্থানীয় পর্যায়ে আছে তাই কোন সংকটের আশংকা হবে না। আর একটি কথা আমি খামারীদের সাথে একমত খামার কাগজে শিল্প হলেও বাস্তবে হয় নি। আমরা চাইলেও তাদের তেমন সহযোগিতা করতে পারি না, যদি সম্ভব হয় সব ধরনের খামারকে শিল্প হিসাবে ঘোষনা করে চাষী এবং খামারীদের কিছু সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর আমাদের মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের পরামর্শ বা সহযোগিতা সবার জন্য থাকে। এ সময় তিনি বলেন কেউ যেন ক্ষতিকারক ঔষধ খাইয়ে গরু মোটাতাজ না করে সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ সব ক্ষতি কারক ঔষধের ফলে মানবদেহে অনেক ক্ষতিকারক রোগ হতে পারে। একই সাথে কৃত্রিম ভাবে মোটাতাজা হওয়া গরু না কিনতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।

পাঠকের মতামত

ইউএনওর নির্দেশে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে বেঁধে রাখল আনসার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ...