প্রকাশিত: ০৬/০২/২০২১ ৯:১৪ এএম

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের কক্সবাজার শহরটাকে আরও সাজাতে হবে, সুন্দর করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে এখানে অনেক পর্যটক আসে। এখানে রাস্তাঘাট কিভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, কিভাবে ময়লা-আবর্জনা ডিসপোজ করা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা আশা করি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজগুলো দৃশ্যমান হবে। এই শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে।’
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। রেললাইন হচ্ছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে, এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তকর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে। মহেশখালী ইকোনমিক হাব হবে, সোনাদিয়া দ্বীপকেকে ইকো ট্যুরিজম সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মেরিন ড্রাইভ চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই থেকে আসবে টেকনাফ পর্যন্ত।’
হেলালুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন ‘মিয়ানমার সরকারের অসহযোগিতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের মাথার উপর বোঝা হয়ে আছে। মানবিকতার খাতিরে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জরুরী।’
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘এই পর্যটন নগরীতে একটা সুন্দর প্রেসক্লাব হবে-এটা সকলের কাম্য। নতুন ভবনের নকশাটা এমনভাবে করবেন যাতে আয় আসে। আমরা জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনাদের সহযোগিতা করবো। আপনারা কাজ করে যান। আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।’

অভিষেক অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরন করে নেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। প্রেসক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের স্মরনে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে নবনির্বাচিত কার্যকরি কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি।
কক্সবাজার প্রেসক্লাব সদস্য জাহেদ সরওয়ার সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মাত্র ১২ জন প্রাণোচ্ছল সাংবাদিকের প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার প্রেস ক্লাব গঠিত হয়। তারা কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেই আজ আমরা আমাদের নিজস্ব প্রাঙ্গণে বসে এ সুন্দর অনুষ্ঠানে মিলিত হতে পেরেছি। প্রেস ক্লাবের ভূমি বন্দোবস্তি পেতে আমাদের দীর্ঘ দুই যুগ কাল অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশে অবশেষে প্রেসক্লাব এই ভ‚মি দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্তি লাভ করে। নামমাত্র সেলামীতে এই জমি বন্দোবস্তি দেয়া হয়েছে। এই অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ১৫-২০টি দৈনিক পত্রিকা। সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছেন কক্সবাজারের অনেক মেধাবী এবং সম্ভাবনাময় তরুণ। আর এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতাধিক সাংবাদিক এখন কাজ করছেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এই অবস্থায় আমরা কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের নিজস্ব জায়গায় একটি অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভবন নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু কাজও ইতোমধ্যে আমরা সম্পন্ন করেছি।’
অনুষ্ঠানে শারিরীক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তব্য শব্দযন্ত্রে প্রচার করা হয়।
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলেও শারিরীক অসুস্থতার কারণ আমি উপস্থিত হতে পারিনি। প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের ভাল কাজের চালিকাশক্তি সাংবাদিকরা। তারা আমাদের পথ দেখান, ভালো কাজে উৎসাহী করেন। অসঙ্গতিগুলো দেখিয়ে দেন।’
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবু তাহের বলেন, ‘এই প্রেসক্লাব শুধু কক্সবাজারের সাংবাদিকদের দ্বিতীয় বাড়ি নয়। এটা কক্সবাজারের জনগনের সম্পদ। কক্সবাজারের সাংবাদিকরা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবকে ভবনকে আমরা আরও আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ১১ তলা ভবনের একটি নকশা তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের পতিষ্ঠাতা সদস্য আতাহার ইকবাল, সাবেক সভাপতি মাহবুবর রহমান প্রমুখ।
এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শাহজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তি রায়সহ প্রেসক্লাবের সদস্যসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer