
aidদেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশের কম। এ সংখ্যাটি এইচআইভি সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর কারণে এইচআইভির ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৭৪ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৫ জন।
দেশের আট বিভাগের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত রোগী সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর কম রংপুর বিভাগে। গতকাল শনিবার ‘এইচআইভি-এইডস সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার, ভ্রান্তধারণা ও বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব এইডস দিবস সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সভাটি হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৭৪ জন এইচআইভি/এইডস রোগী শনাক্ত এবং ১৭০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ২ হাজার ৫২২ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৮, সিলেটে ১ হাজার ২১৯, খুলনায় ৬৬০, রাজশাহীতে ১৯২, বরিশালে ১৭৯, ময়মনসিংহে ৮৬ ও রংপুর বিভাগে ৬৮ জন। দেশের ২৩টি জেলায় এইচআইভি রোগী বেশি শনাক্ত হওয়ায় সেসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। বর্তমানে দেশের ২৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১১টি সেবা সেন্টারে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরিচালক (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিবি-এল ও এএসপি অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, একই সিরিঞ্জ দিয়ে শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমণ হার ২২ শতাংশের বেশি ছিল। এখন এই হার কমে গেছে। আমরা শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের কাউন্সেলিং করছি। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সব অন্তঃসত্ত্বা মায়ের এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভিতে আক্রান্ত ১০৫ জন শনাক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের শিলং, মেঘালয় এলাকায় শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং সমকামীদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ বেশি। মেঘালয় অঞ্চলের ৫ শতাংশ যৌনকর্মী এইচআইভিতে আক্রান্ত। মণিপুর, ত্রিপুরা অঞ্চলে শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে ৮ শতাংশ এইচআইভিতে আক্রান্ত। আর মিজোরাম, মিয়ানমার অঞ্চলে মাদকাসক্তদের মধ্যে ১৯ শতাংশ আক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও ভালো নয়। ওই সব দেশের সঙ্গে আমাদের অবাধ যাতায়াত, যা দেশে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত জনগোষ্ঠী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কুসংস্কার, ভ্রান্তধারণা ও বৈষম্য রয়েছে। এটি দূর করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য পরিচালক (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিবি-এল ও এএসপি অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ ও আজাদ আবুল কালাম, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মতামত