
হুমায়ুন কবির জুশান::
মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমরা সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়। প্রথমে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ তাদের পাশে দাঁড়ান। স্থানীয় যে মানুষগুলো তাদের পাশে থেকে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরকেন্দ্রিক বিভিন্ন এনজিওর বড় বড় পদ কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরের লোকজনের দখলে চলে যায়। রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের বাইরের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পে যারা কাজ করেন তাদের বেতন প্রবাসীদের চেয়েও বেশি। তাই তারা উখিয়া-টেকনাফে শরণার্থী ক্যাম্পে চাকরি করতে এসে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরিতে এসেছেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি স্থানীয়দের সীমাহীন বিপাকে ফেলেছে। স্থানীয় কিছু মানুষ যারা এ ধরনের চাকরিতে ঢুকতে পেরেছিলেন তাদের অনেককেই করোনার কথা বলে বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা ছাঁটাই করেছেন।
তিন মাস লকডাউনের পর উখিয়া-টেকনাফে করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতে থাকে। এনজিওতে কর্মরত অন্যান্য জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এসে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছেন কোনো প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় জান্নাত আরা বলেন, দেড় বছর ধরে অত্যন্ত সততার সঙ্গে ক্যাম্পে কাজ করে আসছি। হঠাৎ করোনার অজুহাতে আমাকে চাকরি হারা করা হয়। এখন আমার পদে অফিসাররা তাদের আত্মীয়কে দিনাজপুর থেকে এনে চাকরি দিয়েছেন। কোনো প্রকার ইন্টারভিউ ছাড়া। ক্যাম্পের চাকরিতে স্থানীয়দের ছাঁটাই করে নতুন করে আত্মীয়-স্বজন নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে।
পরিকল্পিত উখিয়া চাইÑএর আহ্বায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এত কিছুর পর স্থানীয়দের চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু থেকেই। যা মোটেও কাম্য নয়। করোনার কারণে এমনিতেই মানুষ দিশেহারা তার ওপর হঠাৎ বেকার হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।
শুধু ক্যাম্পে নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করোনার মহামারিতে চাকরিহারা হয়ে উখিয়ায় ফিরেছেন অনেকেই। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মানবতার সেবায় নিয়োজিত এনজিওগুলোর অনেকেই নানা দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছেন।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলমান ও বাস্তবায়িত সব প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে বাঁশ ক্রয়-বিক্রয়ে পর্যন্ত রয়েছে সীমাহীন অনিয়ম।

পাঠকের মতামত