প্রকাশিত: ১৫/০৬/২০১৭ ৮:০০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:২৯ পিএম

সরওয়ার আলম শাহীন,উখিয়া নিউজ ডটকম::

উখিয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। উপজেলার অধিকাংশ পরিবারের ২/৩ জন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও রোহিঙ্গাদের পাঠানো অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার সুবাদে স্থানীয় রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলোতে রেমিটেন্স কমেছে বলে মনে করছে সংশিষ্টরা। রমজানের ঈদকে সামনে রেখে প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকা হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্রের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ১৫ সদস্যের একদল হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে ম্যানেজ করে হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ কোটি কোটি কালো টাকার মালিক বনে গিয়ে বহাল তবিয়তে তাদের এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গেলেও পুলিশ, ডি.এস.বি সহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একবারের জন্যও তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি বা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে অবৈধ ব্যবসায় হাতেকড়ি এসব হুন্ডি চক্রের সদস্য সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার সবচেয়ে বেশী হুন্ডির লেনদেন হয় জনবহুল কোটবাজারে। তাছাড়া,রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং,উখিয়া সদর ভালুকিয়া রোড, সোনারপাড়া এলাকায়ও প্রতিদিন হুন্ডির লেনদেন হচ্ছে। উখিয়া থানা পুলিশের হাতে এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তালিকা থাকলেও প্রসাশন এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় প্রসাশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে,চিহ্নিত এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সাথে উখিয়া থানা প্রসাশনের মাসিক চুক্তি রয়েছে। প্রসাশনের সাথে চুক্তি ছাড়াও ্এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতাদের চত্রছায়ায় এ অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাও এলাকার হুন্ডি ব্যবসায়ী মৌলভী আবুল হাশেম (৪৫) হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো টাকা প্রাপকের হাতে পৌছে দেওয়ার জন্য পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ারঘাট বালুখালী গ্রামে আসলে ঝাপঠাবাজদের খপ্পরে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। পুলিশ তার কাছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ হুন্ডির টাকা সহ হুন্ডি ব্যবসার গোপনীয় কাগজ পত্র উদ্ধার করে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামরা দায়ের করেন। সেই থেকে এ পর্যন্ত কোন চিন্থিত হুন্ডি ব্যবসায়ীকে আটক করতে পারেনি উখিয়া থানা পুলিশ। বর্তমানে ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে ঐ অসাধু হুন্ডি চক্রটি আরো বেশী তৎপর হয়ে উঠেছে। উক্ত চক্রের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত নিজস্ব মোটর সাইকের যোগে প্রাপকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুন্ডির টাকা পৌছে দিচ্ছে।

্উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার পিছু ২/৩ জন করে সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তাছাড়া কুতুপালং রেজিষ্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্প ও কুতুপালং ও বালুখালী বস্তিতে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা বস্তির প্রায় ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে পাড়ি জমিয়ে বিদেশে অবস্থান করে। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ঝামেলা মনে করে ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তারা হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রাপকের মোবাইল নাম্বার দিয়ে টাকা পাঠাচ্ছে। হুন্ডি চক্রের সদস্যরা প্রেরকের দেওয়া মোবাইল নাম্বার ধরে নির্ধারিত স্থানে অথবা ডিজিটাল হুন্ডি বিকাশের মাধ্যমে প্রাপকের হাতে টাকা তুলে দেওয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো তারা নিরাপদ মনে করছে। এ ব্যাপারে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে ক্যাম্প কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রবাসীর পাঠানো কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হবে। উক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নাম জানতে চাওয়া হলে সে অপরাগতা প্রকাশ করে বলেন, পত্রিকায় নাম উঠলে তারা আর টাকা দিতে আসবে না। এতে রোহিঙ্গাদের ক্ষতি হবে। হুন্ডি ব্যবসা প্রতিরোধের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সনাক্ত করা কঠিন ব্যাপার। কারণ তাদের কাছে হুন্ডির ব্যবসার আলামত পাওয়া যায় না। তবে হাতে নাতে টাকা সহ আটক করা হলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...