প্রকাশিত: ২১/০৩/২০১৮ ৭:৫৬ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:১১ এএম
ফাইল ছবি

এস এম রানা,কালেরকন্ঠ::
নিরাপদে-নির্বিঘ্নে ইয়াবা পাচার করতে নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পরিবর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবহার, কাভার্ডভ্যানের বিশেষ জায়গায় গোপন ‘পকেটের’ পরিবর্তে খালি ট্রাকে ‘বিশেষ পকেট’ তৈরি এবং তল্লাশির মুখে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ‘ধোঁকা’ দেওয়ার অভিনব সব কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। আর এদের নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও!

সর্বশেষ সোমবার রাতে চট্টগ্রামে এমন একটি অভিযানের বাঁকে বাঁকে গোয়েন্দা পুলিশকে বিস্ময়কর সব ফাঁদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকায় ওই অভিযানে একটি ট্রাক থেকে ৬৩ হাজার ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, বিশেষ কৌশলে ইয়াবাগুলো খালি ট্রাকে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল। এ সময় ইয়াবার লেনদেনের ১০ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং থানার আকাবপুর এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৩৬), মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবু তাহের (৩৮), একই থানার পশ্চিম সিংহ গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৮), কোরপাই গ্রামের কাজী আব্দুল হাশেমের ছেলে কাজী আবুল বাশার (২৫) এবং কোতোয়ালী থানার শাসনগাছা গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০)।

ইয়াবা পাচারকারীদের নতুন কৌশল ব্যাখ্যা করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘‘অতীতে ইয়াবা পরিবহনে কার্ভাডভ্যানে ‘পকেট’ তৈরির বিষয়টি ধরা পড়েছিল। এবার ধরা পড়ল ট্রাকের পেছনের চেসিসের অংশের নিচে ‘বিশেষ পকেট’। যেটি তালা ও হুক দিয়ে আটকানো। সাধারণ চোখে এটা দেখার সুযোগ নেই। ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে কেউ প্রবেশ করে যদি বডি ও চেসিসের মধ্যের অংশ দেখে তবেই দেখা যাবে। সেটিও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, সাধারণ কেউ সন্দেহ করবে না। খালি ট্রাক চালিয়ে যাওয়ার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত তল্লাশি করে না। এই কারণে খালি ট্রাকে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।’’

রুট পরিবর্তনের বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবীর জানান, সাধারণত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ধরেই ইয়াবা পাচার হয়। কিন্তু এই ট্রাকে ইয়াবা তোলা হয়েছে বান্দরবান সদর থেকে। একজন উপজাতীয় নারী তুরুং (উপজাতীয়রা পণ্য বহন করে এমন ঝুড়ি) ভর্তি করে ট্রাকের চালক-হেলপারকে ইয়াবা হস্তান্তর করে। এরপর ট্রাকে ‘বিশেষ পকেটে’ ইয়াবা লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল। এছাড়া এখন ইয়াবা বহন হচ্ছে বান্দরবান থেকে রাজস্থলী হয়ে কাপ্তাইয়ের লিচুবাগান সড়ক ধরে। এ সড়ক ধরে ঢাকার অনেক পরিবহন সরাসরি যাতায়াত করে। তাই সড়কটি ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারকারীরা। বান্দরবান থেকে ইয়াবাগুলো পাচারের সময় উপজাতীয় নারীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছিল দেলোয়ার নামের একজন। আটক হওয়া চালানের বিষয়েও দেলোয়ার সমন্বয় করেছিল। তবে দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বান্দরবান থেকে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশকে ভাবিয়ে তোলেছে। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে এটা সাধারণত তথ্য। এখন বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে বান্দরবান সদর পর্যন্ত ইয়াবা পৌঁছে যাচ্ছে এবং রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই হয়ে ঢাকাসহ দেশের অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে। আবার ইয়াবা পাচারের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য পাচারকারীরা কিছু ইয়াবা দিয়ে (এক প্যাকেট) প্রস্তাব দেয়, এসব ইয়াবা নিয়ে যেন তারা চলে যান। আবার সঙ্গে তাত্ক্ষণিক ঘুষ দিয়েই পার পাওয়ার চেষ্টা করছে পাচারকারীরা।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতে যতো গাড়ি আটক হয়েছে বা পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদের বেশির ভাগই কক্সবাজার ও টেকনাফের বাসিন্দা। কিন্তু এবারের অভিযানে যারা ধরা পড়েছে তারা সবাই কুমিল্লার বাসিন্দা। ট্রাকের মালিক মিজানুর রহমান নিজেই ইয়াবা পাচারের জন্য ট্রাকটি ক্রয় করেছে এবং বিশেষ পকেট তৈরি করে একাধিক দফা ইয়াবা পাচার করেছে বলে স্বীকার করেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইয়াবা পাচারকারীরা ছড়িয়ে পড়ছে এটা বলা যায়।’

গোয়েন্দা পুলিশের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, পাচারকারীরা এখন রুট খরচ সঙ্গে রাখে। পথে পুলিশ ধরলে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে সোমবার ১০ লাখ টাকা নিয়ে দুজন ভিন্ন জায়গায় অপেক্ষায় ছিল। তিনি বলেন, ‘নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি যখন গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়, তখনই পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে পাচারকারীরা। পরে ১০ লাখ টাকাসহ বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’

পাঠকের মতামত

ইনানীতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

অবশেষে কক্সবাজারে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক ফায়ার স্টেশন। অর্থনৈতিক এবং ...