প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০২০ ৮:৩১ এএম

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া
দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে জেলার সবকটি পর্যটন স্পট। করোনা মহামারীর আতংক থেকে পর্যটকদের রক্ষায় ২৬ মার্চ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেশের পর্যটন শিল্পের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সফলতাকে সামনে রেখে সীমিত আকারে পর্যটনের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিলে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠে উখিয়ার সাগর কন্যা ইনানী সমুদ্র সৈকত। হোটেল মোটেল, গেষ্ট হাউস গুলোতে বেড়ে যায় পর্যটকদের বিচরণ। ব্যবসায়ীরা সরকারের এ মহান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বিপুল পরিমাণ পর্যটক করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সীমিত আকারে পর্যটন চালু করে এখাতকে দ্রæত পূর্বের স্থানে নিয়ে যাওয়ায় সরকারের মূল লক্ষ্য।
ইনানী বিচ ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেশ কয়েকজন পর্যটকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যটনের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় বিচ এলাকায় গড়ে উঠা হোটেল মোটেল, গেষ্ট হাউজ গুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসে জিম্মি অবস্থায় দীর্ঘ ৫ মাস একগোয়েমি জীবন যাপন শেষে পর্যটনের পরিবেশ উপভোগ করতে পেরে পর্যটকরাও সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ইনানী বীচের হোটেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানায়, সে বীচ এলাকায় তার একটি হোটেল আছে। হোটেলে ৭/৮ জন কর্মচারী বিনা বেতনে কাটিয়েছে দীর্ঘ ৫ মাস। দীর্ঘদিন হোটেল বন্ধ থাকার ফলে তাকে পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক (এরপর পৃষ্ঠা-২ ঃ কলাম- )
কক্সবাজার
দুরাবস্থায় কাটাতে হয়েছে।
সরকার গতকাল সোমবার থেকে পর্যটন শিল্পকে সীমিত আকারে চালু করার নির্দেশ দিলে ইনানী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত তার হোটেল ক্যাফে রেষ্টুরেন্টটি পুণরায় নতুন উদ্মমে শুরু করার কাজ চলছে। ইনানী প্যাবেল স্টোনের ম্যানেজার সেলিমের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘ ৫ মাসে তার প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও তার মনে দুঃখ নেই। কারণ প্রশাসন তার হোটেলটি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টান হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, গতকাল থেকে হোটেলটি পুণরায় চালু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইনানী বীচে ঘুরতে আসা সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন বন্দি জীবন যাপনের অবসান ঘটিয়ে নিজেকে উন্মুক্ত পরিবেশে পর্যটনের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য স্বপরিবারে কক্সবাজার এসেছেন রোববার বিকেলে। সোমবার সকালে তারা ইনানীতে এসে ইনানীর খোলামেলা পরিবেশ উপভোগ করতে পেরে বেশ আনন্দিত। বললেন, এখনো পুরোপরি পর্যটকের আগমণ ঘটেনি। তাই এসময় খুব স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে তারা ঘুরে ফিরে আবার কক্সবাজার চলে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করলেন।
বীচে বেড়াতে আসা লোহাগাড়ার ব্যাংকার চৌধুরী আলম জানালেন, সে ঢাকাস্থ একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরী করতেন। দেশ করোনায় আক্রান্ত হওয়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে বাধ্য করেন। দীর্ঘদিন বাড়ীতে এক প্রকার গৃহবন্দি অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করার পর কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন ইনানী বীচে ঘুরতে এসেছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তার এক ছেলে সোহান ও স্ত্রী সায়মাকে।
সে তার অনুভুতি ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘ ৫ মাস পর্যটন শিল্প বন্ধ থাকায় সরকার এ খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হলেও অসংখ্য মানুষকে বাচঁতে পেরেছেন পর্যটন শিল্পের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে। বর্তমানে পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ায় এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
ইনানী বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সীমিত আকারে পর্যটন শিল্প চালু করার নির্দেশ দেওয়ায় ইনানী বীচ গতকাল থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পর্যটকদের পর্যটন পরিবেশ উপভোগ করতে হবে। “নো মাস্ক নো এন্ট্রি” এ বাক্যটি সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫৪

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ...

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...
Single Page Footer