
সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখে বিরক্তি নিয়ে মেজর সিনহা (অবঃ) হত্যা মামলার অন্যতম আসামী টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন ‘আমাকে নতুন করে চেনানোর দরকার নেই’।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মামলার সাক্ষগ্রহনের দ্বিতীয় দিন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।
এজলাসে ঢোকার সময় সাংবাদিকরা ছবি নিতে দেখলেই বিরক্ত হন প্রদীপ। ক্যামেরাম্যানদের বললেন, তাকে নতুন করে চেনানোর দরকার নাই।
সকাল ১০ টায় এজলাশে বসে আদালতের কার্যক্রম শুরু করে দায়রা জজ আদালত মোহাম্মদ ইসমাইল। এর আগে সকাল ১০টায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, আজ শারমিন শাহরিয়ারের জেরা সম্পন্ন করে অপর পাঁচ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে। আগামীকাল বুধবারও সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।
এদিন মামলার বাদি সিনহার বড়ো বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসকে আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকতসহ তিন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জেরা করছেন।
দীর্ঘ তিনঘন্টা জেরে শেষে এজলাশ থেকে বের হয়ে প্রদীপের আইনজীবী রানাদাশ গুপ্ত বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধ এজাহারে আনীত অভিযোগ ও বাদীর জবানবন্দির মধ্যে বিস্তর ফাঁরাক আছে উল্লেখ করে বিষয়টি আদালতকে অভিহিত করেছেন তিনি। তাছাড়া মিডিয়া ট্রায়াল বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আদালতকে জানান রানা দাশ গুপ্ত।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রদীপ কুমার দাশ মোটেও জড়িত ছিলেন না। তিনি আদালতের কাছে সেটাই প্রমাণের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদীকে জেরা করা হয়েছে। আদালতের ওপর তাঁর আস্থাও অনেক। তিনি আশা করছেন, আদালতের কাছে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপসহ নয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। সুত্র: একাত্তর টিভি

পাঠকের মতামত