
হুমায়ুন কবির জুশান (উখিয়া কক্সবাজার)::
বিশাল আকাশের নিচে বিস্তৃত এক অপরুপ সাজে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়ক। এর পাশ দিয়ে চলে গেছে ঘুমধুমের আকা-বাকা রাস্তা। বালুখালী কাস্টমস ঘেষে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়কটিতে প্রাতভ্রমণে আসেন অনেকেই। বিশেষ করে বৈকাল বেলা এনজিও তরুণ-তরুণীদের ভীড় চোখে পড়ার মতো ছিল। সারা দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ শেষ করে বিকালে মুক্ত বাতাস খেতে আসতেন তারা। করোনার ভয়ে এখন আর আসেন না। তাই এই মন ভুলানো সড়কটি এখন ফাঁকা। আকাশের পানে চেয়ে যতদূর যাওয়া যায় মেঘের মিতালি দেখা মিলেছে তার রুপের ছটা। অপরুপ রুপে সেজেছে সড়ক। উখিয়ার বালুখালী আর নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা ঘুমধুমের বিস্তৃত ভূমি নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক। ভ্রমণ প্রেমিকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার ঘাট হয়ে প্রবেশ পথ। এশিয়ান হাইওয়ে এর ট্রান্স রোড়ের অংশ হিসেবে ২ কিলোমিটার সড়কের ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়ক। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য প্রসারে উক্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে উক্ত সড়ক চালু না হলেও পর্যটন স্পট হিসেবে এটি ইতিমধ্যে প্রসার লাভ করেছে। নানা রঙের বাহারি সাজে সেজেছে এটি। মিয়ানমারের সীমান্ত কাটা তারের বেড়া,এই সড়কটির আশপাশ পাহাড় ও লতাপাতায় ঘেরা সড়ককে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট। অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন। সকাল-দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা একেক সময়ে একেক রুপে দেখা দেয় মৈত্রি সড়ক। আকাশে কখনো সাদা মেঘের ভেলা, কখনো কালো মেঘের আনাঘোনা, কখনো ধুসর আর গোধুলি বেলায় আবিরের রঙে সাজে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়কের আকাশ। সন্ধ্যায় ওপরে আকাশের আবিরের রং প্রতিফলিত হয় নিচের বিশাল সড়কের ওপর। সবমিলে এক অসাধারণ দৃশ্যের দেখা মেলে সেখানে। ওখানে দিগন্তজুড়ে দেখা মেলে সবুজের আলপনা। তাই সড়কটির নিরিবিলি পরিবেশ দেখতে ভ্রমণপিপাসুরা এখানেই চলে আসে। আশপাশে কোথাও নগরায়নের ছোঁয়া নেই, নেই অবকাঠামো আর হোটেল-মোটেলের সুবিধা। প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাস্তবতায় মৈত্রি সড়ক দেখতে নাগরিক সুবিধায় অভ্যস্তরা এখানে আসতে পারছেন না। এসব অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারলে তারাও আসতে পারেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

পাঠকের মতামত