মহেশখালীর মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে আইওএম-এর ‘ডিজিটাল দ্বীপ’ প্রকল্প

বার্তা পরিবেশক::
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড (দ্বীপ)’ প্রকল্পের আয়োজন ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড ফেস্ট’-এ হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়েছিল। ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ একটি বহুমুখী প্রকল্প যা বাংলাদেশের অন্যতম বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীটিকে দেশের দ্রুততম গতির ইন্টারনেট মাধ্যমে বিশ্বের সাথে যুক্ত করেছে। মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো জামিরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড ফেস্ট’ আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পটি আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রথম পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প। আইওএম, কোরিয়া টেলিকম, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি মহেশখালীতে বিদ্যমান একটি টাওয়ার সংস্কার করেছে এবং গিগা মাইক্রোওয়েভ (GiGA microwave) স্থাপন করেছে ফলে মহেশখালীর বাসিন্দারা ১০০ এমবিপিএসেরও বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। দ্রুততর ইন্টারনেট সুবিধা স্থানীয় জনগোষ্ঠীটিকে উন্নত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের পরিষেবাগুলো নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্বীপটির বাসিন্দাদের শিক্ষা’র সরঞ্জামাদি এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন স্বাস্থ্য পরিষেবাও দেওয়া হয়। স্থানীয় শুটকি উৎপাদনকারীদের উৎপাদিত শুটকি বিক্রয়ের জন্য ই-কমার্সের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) পূরণে ডিজিটাল আইল্যান্ড দ্বীপ উদ্যোগও বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি অংশ।
আইওএম গত ২১ অক্টোবর এই দ্বীপে আয়োজন করে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড ফেস্ট’। এই আয়োজনে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশনার এবং ভিডিও-অনলাইনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে ‘ডিজিটাল দ্বীপ’-কে তুলে ধরে। মহেশখালী এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল কারণ এটি বাংলাদেশের অন্যতম স্বল্প-উন্নত জনগোষ্ঠী। এখানে নিরক্ষরতার হার বেশি এবং মাটির লবণাক্ততা কৃষি ফলনে বাধা দেয়। স্থানীয় যুবসমাজ দ্বীপ থেকে স্থানান্তরিত হচ্ছে এর ফলে এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ডিজিটাল দ্বীপ প্রকল্পটি’র লক্ষ্য হল সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিদ্যমান জনসুবিধাদির আরো প্রসার ঘটিয়ে মহেশখালীর বাসিন্দাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা। ডিজিটাল দ্বীপের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলঃ
• ২৫টি স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
• জাগো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক-তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের দূর-শিক্ষণ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানী ঢাকা’র শিক্ষকরা মহেশখালী দ্বীপের শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইংরেজী কোর্সে শিক্ষা প্রদান করেন। প্রকল্পটি ই-টিচিং এবং ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নত করছে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরে, শিক্ষা-উপাদানগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
• কীটনাশক এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিক উপকরণগুলোর ব্যবহার কমিয়ে স্থানীয়দের জৈব কৃষি এবং অর্গানিক পদ্ধতিতে মাছ শুকানোতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশপাশি ই-কমার্সের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে আয় বাড়ানো ও মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
• চারটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক এবং একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে মোবাইল স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যাবে। এসব পরিষেবাগুলো হলঃ স্বয়ংক্রিয় স্বাস্থ্যগত রেকর্ড সিস্টেম, টেলিমেডিসিন পরামর্শ, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে নির্ণয় যেমন মূত্র পরীক্ষক, আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস এবং রক্ত পরীক্ষক ইত্যাদি।
• স্থানীয় এবং সরকারী কর্মকর্তাদের কম্পিউটার দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে একটি কমিউনিটি ক্লাব এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-এর মাধ্যমে কম্পিউটার এবং দ্রুত গতির ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন