এমএসএফের প্রতিবেদন : রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখনও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অপর্যাপ্ত ভ্যাকসিনেশন কভারেজ এর কারণে রোহিঙ্গারা ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। আসন্ন বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের জন্য এমএসএফ নিচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে ৭,০০,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর পর পার হয়ে গেছে বিশ মাস। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা এখনও মারাত্মক কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি পরিবেশে রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে বানানো অস্থায়ী ঝুপড়ির মত বাসস্থানগুলো সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য রোগের ব্যাপকতা তাদের টিকাদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের অপর্যাপ্ততা নির্দেশ করে, আর তীব্র পানিবাহিত ডায়রিয়ার রোগীর আধিক্য ইঙ্গিত দেয় বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাবের দিকে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত এমএসএফ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৭,০৩২ জনকে ডিপথেরিয়ার জন্য, হামের ঝুঁকিতে থাকা ৪,৯৮৭ জনকে, এবং ৯৯,৬৮১ জন রোগীকে তীব্র পানিবাহিত ডায়রিয়ার জন্য চিকিৎসা প্রদান করে।
মিয়ানমারে বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্যাকসিনেশন কভারেজ খুবই কম। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচীগুলোতে এমএসএফ সহায়তা করেছে, যেন ডিপথেরিয়া, হাম ও কলেরার মত রোগগুলোকে প্রতিরোধ করা যায়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই)-কে আরও সফলভাবে চালানর জন্যও এমএসএফ সরকারের সাথে কাজ করছে। বর্তমানে এই ইপিআই কর্মসূচীর আওতায় দুই বছরের কম বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের টিকা দেয়া হচ্ছে, এটি পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ও বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কমানোর জন্য এমএসএফ অতিরিক্ত আরও বেশ কিছু কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৭ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৭৭,৪৩০ জন শরণার্থীর জন্য এমএসএফ ১৯৩ মিলিয়ন লিটার ক্লোরিনেটেড পানি বিতরণ করেছে। এছাড়াও, পানি সরবরাহের জন্য পাঁচটি ওয়াটার নেটওয়ার্ক ও ল্যাট্রিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ফেকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। ৩৯০টি ল্যাট্রিনের ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে, ৭৬০টি ল্যাট্রিন থেকে ১,৪৩৩ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য পরিস্কার করা হয়েছে, আর এর সাথে সাথে রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য প্রায় ১২,০০০ সেশন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা নিয়ে এমএসএফ উদ্বিগ্ন। সেকেন্ডারি পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, গুণগত মানসম্পন্ন ও ২৪-ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত সার্জিক্যাল সুবিধা, গাইনী ও নবজাতকের চিকিৎসা, শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন ক্রনিক রোগের চিকিৎসার সুযোগ এখানে অনেক কম। শিশু, নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য আইপিডি (ইনপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট) সুবিধা প্রদানকারী প্রধান সংস্থাগুলোর মধ্যে এমএসএফ অন্যতম।
আসন্ন বর্ষাকাল ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম এর ব্যাপারে এমএসএফ প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ও নাজুক ঘরগুলো সাইক্লোন বা সাধারণ ভারী বৃষ্টিতে পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে পড়বে। জরুরী আবহাওয়া মোকাবেলার জন্য ক্যাম্পে কোন সাইক্লোন শেল্টার নেই, স্থানীয় জনগণের জন্যও অপর্যাপ্ত। এমএসএফ-এর দুটি হাসপাতালে ম্যাস ক্যাজুয়ালটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান করা হচ্ছে; যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যায়, যেন প্রয়োজন হলে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা আউটব্রেক সেন্টারে সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া যায়, এবং যেন প্রয়োজনে নন-ফুড আইটেম বিতরণ করা যায়।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর উপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমেই কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যচাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী সার্জিক্যাল (অস্ত্রোপচার) সুবিধা ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে সীমাবদ্ধ, এবং এটি সময়ের সাথে সাথে আরও কমে যেতে পারে। যখন কোন রোগীর জীবন রক্ষাকারী অপারেশনের প্রয়োজন হয় (যেমন গাইনী ইমার্জেন্সি), তখন তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ তাদেরকে ভর্তি করার মত স্বাস্থ্যকেন্দ্র তেমন পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় অপারেশনের রোগীদের রেফার করা হয় কক্সবাজারে, যেখানে মানব সম্পদ অনেক সীমিত; অথবা চট্টগ্রামে, যেখানে সড়কপথে যেতে বেশ কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। এই রকম লম্বা অপেক্ষার কারণে অনেক সময় স্থিতিশীল (স্ট্যাবল) রোগীর অবস্থাও মরণাপন্ন অবস্থার দিকে মোড় নিতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সাইকিয়াট্রিক সুবিধা দেয়ার মত সংস্থার সংখ্যা বেশ কম, এমএসএফ তার মধ্যে অন্যতম। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় অনেক রোহিঙ্গাই এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট। এর সাথে তাদের নিয়মিত জীবিকার অভাব, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, সব কিছু তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমএসএফ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীদেরও চিকিৎসা প্রদান করে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এমএসএফ কক্সবাজারে ১০০০-এরও বেশি যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীদের চিকিৎসা দিয়েছে। এই চিকিৎসার মধ্যে থাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা (কাউন্সেলিং), যৌনবাহিত রোগে সংক্রামিতদের চিকিৎসা, হেপাটাইটিস বি এর জন্য টিকাদান, এবং অনিরাপদ গর্ভধারণ প্রতিরোধ।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট কক্সবাজারের জনস্বাস্থ্য সেবার উপর প্রভাব ফেলছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমএসএফ উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সাইকিয়াট্রিক সেবা প্রদান করছে। এছাড়া, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এমএসএফ বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এখনও বড় সমস্যা হয়ে আছে আইনগত স্বীকৃতির (লিগ্যাল স্ট্যাটাস) অভাব, চলাফেরার বাধ্যবাধকতা এবং অনশ্চিত ভবিষ্যৎ; এবং এগুলো তাদের স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্ন ভাবে প্রভাব ফেলে। মানবিক সাহায্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোর আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও বেশি কাজ করা প্রয়োজন, যেন দীর্ঘমেয়াদী চাহিদাগুলো বাড়তে বাড়তে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রভাব না ফেলে। সেকেন্ডারি লেভেলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অনুদান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

কক্সবাজারে এমএসএফ-এর প্রকল্প

এক নজরে কক্সবাজারে এমএসএফ-এর কার্যক্রম
স্বাস্থ্যকেন্দ্রঃ ইনপেশেন্ট সুবিধা সম্বলিত তিনটি হাসপাতাল, চারটি ২৪-ঘন্টাব্যাপী চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রজনন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক, যে কোন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় একটি স্ট্যান্ডবাই আইসোলেশন সেন্টার, এবং দুইটি হেলথ পোস্ট।
রোগীর সংখ্যা (আগস্ট ২০১৭ – মার্চ ২০১৯): ওপিডি বা বহিঃবিভাবে মোট ১২,৪২,৫০০ মেডিক্যাল কনসাল্টেশন, ২১,৫৪৯ জন রোগীকে ভর্তির মাধ্যমে আইপিডি-তে চিকিৎসা প্রদান, ৭,০৩২ জন ডিপথেরিয়া রোগীর চিকিৎসা, ৪,৯৮৭ জন হামের ঝুঁকিতে থাকা রোগীর চিকিৎসা, প্রসূতি নারীদের জন্য ৪৭,৫৫৬ মেডিক্যাল কনসালটেশন, ২,৭৫০ শিশুর জন্মদান, ১,০৮৭ যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীর চিকিৎসা, ২৫,৬৭৯ ব্যক্তিগত ও ৪১,৪৮০ গ্রুপ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাউন্সেলিং।
প্রধান রোগসমূহঃ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়াজনিত রোগ ও চর্মরোগ।
পানি ও পয়ঃনিস্কাশন কার্যক্রমঃ প্রায় ৭৭,৪৪৩০ জন শরণার্থীর জন্য প্রায় ১৯৩ মিলিয়ন লিটার পানি বিতরণ, পানি সরবরাহের জন্য পাঁচটি ওয়াটার নেটওয়ার্ক নির্মাণ, ল্যাট্রিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত প্ল্যান্টের মাধ্যমে ১,৪৩৩ মিলিয়ন বর্জ পরিস্কার ও ব্যবস্থাপনা, ৩৯০টি ল্যাট্রিন ব্লক নির্মাণ, ৭৬০টি ল্যাট্রিনের বর্জ্য অপসারণ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য ১১,৯৯০টি সেশন।
আউটরিচঃ স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা সম্পর্কিত তথ্য আহরণ, সরকারের টিকাদান কর্মসূচীতে সহয়তা প্রদান, এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ। এই টিম পুষ্টি, জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যচাহিদা নিরুপণ করে।
কর্মীঃ প্রায় ১,৬০০ স্টাফ।

বাংলাদেশে অন্যান্য কার্যক্রম
এমএসএফ ঢাকার কামরাঙ্গীর চর এলাকায় আলিনগর ও মাদবর বাজারে দুটি বিশেষ স্বাস্থ্য ক্লিনিক পরিচালনা করে, যেখানে আমরা ক্ষুদ্র কারখানার ৭,০০০ শ্রমিকের জন্য একটি পেশাগত স্বাস্থ্য কর্মসূচী পরিচালনা করি। এই সেবার মধ্যে আছে পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমনঃ আঘাত), টিটেনাসের টিকা এবং কারখানাগুলিতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রম। আমরা প্রাথমিকভাবে ২০ বছরের কম বয়সী নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাও ও পরামর্শ প্রদান করি। এর মধ্যে আছে গাইনী পরামর্শ, পুষ্টিগত সহায়তা, নিয়মিত টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, এবং শিশুর জন্মবিষয়ক স্বাস্থ্য সহায়তা।
যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য এমএসএফ-এর কামরাঙ্গীর চর প্রকল্পে আছে মেডিক্যাল সেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনী সাহায্য প্রদানকারী সংস্থার কাছে রেফার করা সহ পূর্নাংগ স্বাস্থ্যসেবা। কামরাঙ্গীর চরের অন্যান্য সকল মানুষের জন্যও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এমএসএফ।

এক নজরে কক্সবাজারে এমএসএফ-এর কার্যক্রম

স্বাস্থ্যকেন্দ্রঃ

ইনপেশেন্ট সুবিধা সম্বলিত তিনটি হাসপাতাল, চারটি ২৪-ঘন্টাব্যাপী চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রজনন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক, যে কোন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় একটি স্ট্যান্ডবাই আইসোলেশন সেন্টার, এবং দুইটি হেলথ পোস্ট।

রোগীর সংখ্যা (আগস্ট ২০১৭ – মার্চ ২০১৯):

ওপিডি বা বহিঃবিভাবে মোট ১২,৪২,৫০০ মেডিক্যাল কনসাল্টেশন, ২১,৫৪৯ জন রোগীকে ভর্তির মাধ্যমে আইপিডি-তে চিকিৎসা প্রদান, ৭,০৩২ জন ডিপথেরিয়া রোগীর চিকিৎসা, ৪,৯৮৭ জন হামের ঝুঁকিতে থাকা রোগীর চিকিৎসা, প্রসূতি নারীদের জন্য ৪৭,৫৫৬ মেডিক্যাল কনসালটেশন, ২,৭৫০ শিশুর জন্মদান, ১,০৮৭ যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীর চিকিৎসা, ২৫,৬৭৯ ব্যক্তিগত ও ৪১,৪৮০ গ্রুপ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাউন্সেলিং।

প্রধান রোগসমূহঃ

শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়াজনিত রোগ ও চর্মরোগ।

পানি ও পয়ঃনিস্কাশন কার্যক্রমঃ

প্রায় ৭৭,৪৪৩০ জন শরণার্থীর জন্য প্রায় ১৯৩ মিলিয়ন লিটার পানি বিতরণ, পানি সরবরাহের জন্য পাঁচটি ওয়াটার নেটওয়ার্ক নির্মাণ, ল্যাট্রিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত প্ল্যান্টের মাধ্যমে ১,৪৩৩ মিলিয়ন বর্জ পরিস্কার ও ব্যবস্থাপনা, ৩৯০টি ল্যাট্রিন ব্লক নির্মাণ, ৭৬০টি ল্যাট্রিনের বর্জ্য অপসারণ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য ১১,৯৯০টি সেশন।

আউটরিচঃ

স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা সম্পর্কিত তথ্য আহরণ, সরকারের টিকাদান কর্মসূচীতে সহয়তা প্রদান, এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ। এই টিম পুষ্টি, জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যচাহিদা নিরুপণ করে।
কর্মীঃ প্রায় ১,৬০০ স্টাফ।

 

বাংলাদেশে অন্যান্য কার্যক্রম

এমএসএফ ঢাকার কামরাঙ্গীর চর এলাকায় আলিনগর ও মাদবর বাজারে দুটি বিশেষ স্বাস্থ্য ক্লিনিক পরিচালনা করে, যেখানে আমরা ক্ষুদ্র কারখানার ৭,০০০ শ্রমিকের জন্য একটি পেশাগত স্বাস্থ্য কর্মসূচী পরিচালনা করি। এই সেবার মধ্যে আছে পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমনঃ আঘাত), টিটেনাসের টিকা এবং কারখানাগুলিতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রম। আমরা প্রাথমিকভাবে ২০ বছরের কম বয়সী নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাও ও পরামর্শ প্রদান করি। এর মধ্যে আছে গাইনী পরামর্শ, পুষ্টিগত সহায়তা, নিয়মিত টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, এবং শিশুর জন্মবিষয়ক স্বাস্থ্য সহায়তা।
যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য এমএসএফ-এর কামরাঙ্গীর চর প্রকল্পে আছে মেডিক্যাল সেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনী সাহায্য প্রদানকারী সংস্থার কাছে রেফার করা সহ পূর্নাংগ স্বাস্থ্যসেবা। কামরাঙ্গীর চরের অন্যান্য সকল মানুষের জন্যও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এমএসএফ।

 

ad