মেজর রাশেদ হত্যার ঘটনায় ডিআইজি গোলাম ফারুক কক্সবাজারে

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ হত্যার ঘটনা বিস্তারিত জানতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম কক্সবাজার এসেছেন। রোববার ২ আগস্ট বিকেলে তিনি কক্সবাজার পৌঁছেন। এর আগে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম এন্ড অপারেনন্স) মো. জাকির হোসেন কক্সবাজার আসেন। বিশ্বস্ত সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় পুলিশের টেকনাফের বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী সহ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। রোববার ২ আগস্ট সকালে তাদেরকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। একইসাথে বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রে কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট রাত্রে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডে কক্সবাজারমূখী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ এর প্রাইভেট কারটি টেকনাফের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে পৌঁছালে গাড়িটি তল্লাশি করা নিয়ে তর্ক হয়। তখন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ উপর দিকে তার হাততুলে তার কার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তাঁকে তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী গুলি করে হত্যা করে বলে সেনা সদর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

খুন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ যশোরের বীর হেমায়েত সড়কের সরকারের সাবেক উপসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ খানের সন্তান। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ ৫০ তম বিএমএ লং কোর্সের একজন কর্মকর্তা হিসাবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশের এলিট ফোর্স এসএসফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) এ একজন বাচাইকৃত চৌকস সেনা অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে মেজর পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিনহা মো: রাশেদ সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ঢাকাস্থ স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ফ্লিম এন্ড মিডিয়া বিভাগ থেকে জাস্ট গো নামক একটি কোম্পানির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়ার প্রামাণ্য তথ্য চিত্র নির্মানের জন্য গত ৩ জুলাই থেকে তিনি সহ আরো ৪ জন কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। গত ৫ জুলাই তারা কক্সবাজার পৌরসভার মাধ্যমে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হতে করোনার নমুনা টেস্ট করান। টেস্টে তাদের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে

এ ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ১ আগস্ট কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোঃ শাজাহান আলি-কে আহবায়ক ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও রামু সেনানিবাসের ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তের কর্মপন্থা প্রণয়ন শুরু করেছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছেন। সুত্র: সিবিএন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন