
উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে র্যালি নিয়ে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে। রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের ফলে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বাধীন র্যালিটি প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে থমকে যাওয়ার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দেয়।
বিক্ষোভকালে রোহিঙ্গারা ইংরেজিতে লেখা ‘আমরা দিবস পালন নয়, নাগরিক মর্যাদা নিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবাসন চাই,’ ‘আমরা শরণার্থী জীবন চাই না, স্বদেশে ফিরতে চাই’, ‘আমরা সাহায্য চাই না, স্বদেশে ফিরতে চাই’ ইত্যাদি বক্তব্য সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের হাতে প্রদর্শিত প্লেকার্ড ও ব্যানারে লিখিত দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখেন। পরে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কুতুপালং রেজি: ক্যাম্পে বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানেও রোহিঙ্গারা তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গারা আগামী ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় মিয়ানমারের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ থেকে নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার নিয়ে রাখাইনে নিজ নিজ ভিটে মাটিতে ফেরার আকুতি জানিয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে অংশ নেয়া কুতুপালং রেজি: ক্যাম্পের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মো. ইউনুচ আরমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আমেরিকার সরকার ৭ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে এবং এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন। এর জবাবে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমাদের সহযোগিতার দরকার নেই। রোহিঙ্গাদের জন্য দেয়া মার্কিন সহযোগিতা বিভিন্ন এনজিও নানাভাবে খরচ করছে। সব সাহায্য রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এই মুহুর্তে আমাদের দরকার চীন সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে সম্মানের সাথে স্বদেশে ফেরত পাঠানো। কারণ, বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যা বহুল দেশ। এই দেশে থাকলে যে কোন সময়ে স্থানীয়দের সাথে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা এই দেশে থাকতে আসিনি।
উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো গতকাল নানা আয়োজনে ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উখিয়ার কুতুপালং ও মধুরছড়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে যোগদান করেন তাঁর নেতৃত্বে আসা টিমটি।
র্যালিতে ‘ইউএনএইচসিআর’র বাংলাদেশের প্রধান স্টিফেন করলিস, কঙবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম, পাবেল হায়দার, ওবাইদুল্লাহসহ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি শেষে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে ‘ইউএনএইচসিআর’র বাংলাদেশের প্রধান স্টিফেন করলিস বলেছেন, বিশ্ব শরণার্থীদের দিবসে আমরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পে এসেছি। আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে আছি এবং থাকব। আমরা মনে করি বাংলাদেশ এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের ৭ কোটি শরণার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।
জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ জুন এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে রয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় শরণার্থীর বোঝাটি বহন করছে বাংলাদেশ।
কুতুপালংয়ের ৭ নাম্বার ক্যাম্পের হেড মাঝি মুহিদুল্লাহ (৩৫) জানান, রোহিঙ্গারা যেসব গ্রামে বাস করত, সে গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে বুড্ডিস্ট রাখাইনদের নিয়ে এসে ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ গড়া হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নেবে এ কথা বিশ্বাস করা যায় না। কঙবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যবাসন কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, নানা কারণে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরার বিষয়টি ঝুলে আছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকের পর বৈঠক করলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখেনি।

পাঠকের মতামত