ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০১/০৪/২০২৪ ১:৪১ পিএম

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এমনই দাবি করেছেন। আর এতে তারা উদ্বিগ্ন। বলেছেন, জোর করে ডিমোটিভেট করে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা হচ্ছে এমন কোনো পরিসংখ্যান নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোছা. নুরজাহান খাতুন গতকাল শিক্ষার বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘আমি কোথাও কোথাও দেখেছি, মাদ্রাসাগুলো একেবারে স্কুলের কাছে তৈরি হয়েছে। একটি জায়গার মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান। একটি স্কুল আরেকটি মাদ্রাসা। মাদ্রাসার লোকজন জোর করে ডিমোটিভেটেড করে আমাদের ছাত্রদের নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ভাবনার।’ তিনি বলেন, যারা মাদ্রাসা থেকে পাশ করে, তারা ঐ সার্কেলের ভেতরেই থাকে। বেহেস্তে যাওয়ার জন্য তারা মাদ্রাসায় পড়তে চান। তিনি বলেন, বেহেস্তে যাওয়া এত সহজ নয়। বিষয়টি বোঝানোর জন্য তিনি শিক্ষক, অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রাইমারি ছাত্রদের মাদ্রাসায় চলে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা এনজিওদের মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানও। সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত গবেষণায় বিষয়টি তুলে ধরেছে। ২০২০ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করা শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ এমপিওভুক্ত ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রায় ২১ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এবং এনজিও স্কুলে পড়ালেখা করে। আনুমানিক ৩ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় (কওমি, বেসরকারি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আলিয়া বা সরকারের সহায়তায় পরিচালিত মাদ্রাসা) পাঠাতে পছন্দ করেন। ৩ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় স্থানান্তরিত হয়েছে।

তারা গবেষণা করে দেখিয়েছে, ২০২০ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসায় স্থানান্তরের একটি লক্ষণীয় প্রবণতা দেখা গেছে। মাধ্যমিক স্তরের তুলনায় প্রাথমিক স্তরে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি (৬.৪ শতাংশ) ছিল। শিশুরা সাধারণত মূলধারার স্কুলগুলোতে বেশি পড়ালেখা করে। যেসব শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তাদের অভিভাবককে সন্তানের জন্য মাদ্রাসা বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভিভাবক ধর্মীয় কারণকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক-পঞ্চমাংশ বলেছেন, মাদ্রাসা বাড়ির নিকটে ও মহামারি চলাকালে মাদ্রাসা খোলা ছিল এবং মূলধারার স্কুলগুলো তখন বন্ধ ছিল।

মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী বেড়েছে মাদ্রাসায়

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে গত চার বছরে ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী কমলেও এ সময়ে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে আড়াই লাখেরও বেশি। সরকারি এই সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালে দেশে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৯২ লাখ ৩ হাজার ৪২৭ জন। চার বছর পর ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৮ জনে। অর্থাৎ চার বছরে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী কমেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৪ জন। ২০১৯ সালে তা ছিল ২৪ লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ জন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মাদ্রাসায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। খসড়া প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে মাদ্রাসায় বাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়নি। তবে শুধু মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে তাই নয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে ৫ হাজার ৩৯৫টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। চার বছর আগে যা ছিল ৭ লাখের মতো।

আজিজুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, করোনার পর দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। খোলার পর সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাস হচ্ছিল। পরীক্ষা ও পড়ার চাপ না থাকায় সে পড়ালেখায় অমনোযোগী হচ্ছিল। তার সমবয়সী যারা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে, সবার শ্রেণি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। এতে সে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়েছে। তাই স্কুল বাদ দিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি।

পাঠকের মতামত

৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ...

অভাবকে হার মানিয়ে কক্সবাজারের নীলার আমেরিকা যাত্রা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন কক্সবাজারের মেয়ে নীলা ওয়ান রাখাইন। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ...

অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ...

৪৭তম বিসিএসে উখিয়ার রেকর্ড: এক ইউনিয়ন থেকে চারজন বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের চার মেধাবী ...

আইসিটি স্পেশাল কেয়ারে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ইমরান আল মাহমুদ • দক্ষিণ কক্সবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় কোচিং সেন্টার আইসিটি স্পেশাল কেয়ারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ...

৩৫ বছরের ঐতিহ্য, তবুও সরকারি নয়উখিয়া কলেজ জাতীয়করণের জোর দাবি

দক্ষিণ কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উখিয়া কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন উপজেলার সর্বস্তরের ...
Single Page Footer