
সৈয়দুল কাদের :
সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কাজ করা ক্রমশঃ জটিল হয়ে পড়ছে। প্রবাসীদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধীক সৌদি নাগরিককে চাকরি দেওয়া বাধ্যতামুলক করা ও আকামা ‘ফি’ তিনগুণ আদায় করার কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকরা কর্মহীন ও আকামা নাবায়ন করতে না পারায় অবৈধ হয়ে পড়ছেন। যার ফলে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন অসংখ্য শ্রমিক।
সৌদি আরবে কাজ করা বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ছাটাইয়ের তালিকায় শীর্ষ আছে বাংলাদেশের শ্রমিকরা। গুরুত্বপুর্ণ মক্কা ও মদিনায় অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মক্কায় কাজ করা আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, এখন প্রবাসীদের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সৌদি নাগরিক রাখা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলের রিসিভশনে দুইজন করে সৌদি মহিলাকে রাখা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। এদের বেতন দিতে হয় অন্য কর্মচারীর চেয়ে অনেক বেশী। যার ফলে মালিকপক্ষ কর্মচারী ছাঠাই করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ি ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। সৌদি নাগরিক যাদের চাকরি দেওয়া হয় তারা তেমন কোন কাজ করেননা, বসে বসে সময় কাটান। তবু এদের বেতন দিতে হবে যথা সময়ে এবং বেশি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা বর্তমানে মক্কায় আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ি জাফর আলম জানিয়েছেন, হোটেলের মুল মালিকের কাছে মোটা অংকের অগ্রীম টাকা ফেরত না আসায় ব্যবসা বন্ধ করতে পারছি না। প্রতি মাসেই লোকসান যাচ্ছে। সৌদি দুই কর্মচারীকে বেতন দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে ১৫ হাজার সৌদি টাকা। যা বাংলাদেশের টাকায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। এ সব টাকা গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত। তাই প্রতিমাসেই লোকসান যাচ্ছে।
এদিকে কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা এখন বেকার। আকামা না থাকায় কাজ করতে পারছেন না। আকামা নবায়ন ফি ১৬ হাজার সৌদি টাকা দিতে না পারায় নিজেই অবৈধ হয়ে গেছি। একবার নবায়ন করতে ১ বছরের রোজগার দিয়ে দিতে হয়। আবার টাকা দিয়েও আকামা দেয় না অনেক মালিক। টাকা ফেরত চাইলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তাই আকামা বাতিল করেছি। মক্কায় অবস্থানরত শ্রমিকদের অধিকাংশের আকামা নাই। কাজ পেলে করে না হয় বসে থাকে। এভাবেই চলছে জীবন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসা ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না বাংলাদেশী শ্রমিকদের।
মক্কায় পাইকারী দোকানের মালিক মোহাম্মদ জনি জানিয়েছেন, বিগত যেকোন সময়ের মধ্যে বর্তমানে ব্যবসায় খারাপ অবস্থা চলছে। বেশী লাভ হলে দোকানের মুল মালিক সৌদি বাসিন্দারা নানা তালবাহানা করে বাড়তি টাকা আদায় করতে চায়। তাই এখন ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
মদিনায় বসবাসরত ব্যবসায়ি মোঃ সোহেল জানিয়েছেন, ব্যবসার শুরুতে একটি পাইকারী ব্যবসা ছিল। ব্যবসা ভাল হওয়ায় কৌশল করে মুল মালিক দোকান কেড়ে নেয়। বর্তমানে একটি জুতার দোকান করছি। এতেও নানা সমস্যায় আছি। আকামা নবায়ন ফি দিতেই আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রিয়ভাবে কোন ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা আরো জটিল হবে। অনেকেই স্বর্বস্ব বিক্রি করে সৌদি আরব আসলেও এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

পাঠকের মতামত