প্রকাশিত: ০১/১১/২০২১ ৯:৩৯ এএম

সুনামগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্ম সনদ দেওয়ার মামলায় সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখতসহ চার জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

রোববার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কুদরত-এ-ইলাহী ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪১’-এর ধারা মোতাবেক চার্জের দায় থেকে এই চারজনকে অব্যাহতি প্রদান করেন। সুনামগঞ্জ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মলয় চক্রবর্তী রাজু সমকালকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চার ব্যক্তি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওই দিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

ওই দিনই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ (৩৬), রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন (২৩), সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (২৪) ও আমির উদ্দিনকে (২৩) আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার। এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেলের সুপারিশে পৌরসভা থেকে জন্মসনদ নিয়েছিলেন। এই মামলায় ওই বছরের ২১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

এতে এজাহারভুক্ত চার আসামি ছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পিযুষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারি পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও সুনামগঞ্জ বারের আইনজীবী কাওসার আলমকে যুক্ত করা হয়।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত তখন দাবি করেছিলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যখন এসব সনদপত্র দেওয়া হয়, তখন তিনি ঢাকায় ছিলেন। তার দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (তখনকার প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল। তাই রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই তিনি যুক্ত নন।

রোববার এই মামলার চার্জ গঠন সংক্রান্ত আদেশের দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, আসামি আমির উদ্দিন, পীযুষ কান্তি তালুকদার ও মো. সেলিম উদ্দিনকে অব্যাহতি দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ আদালত পৌরসভার মেয়র নাদের বখতসহ এই চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার মতো কোনো উপাদান না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি প্রদান করেন। আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অসিম চন্দ্র দেবও চার্জ গঠনকালে এই চারজনকে অব্যাহতি দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আপ্তাব উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, সৈয়দ শামছুল ইসলাম, আইনুল ইসলাম বাবলু, শুকুর আলী, প্রদীপ আচার্য সেন্টু, মনিষ কান্তি দে মিন্টু, আসিক মিয়া। সরকারপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মলয় চক্রবর্তী রাজু।

পাঠকের মতামত

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণেই আগের সরকার প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে ব্যর্থ করে ...

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও কঠিন হয়ে যাবে একদিন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ...

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সুইডিশ সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ...

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনবিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে ...
Single Page Footer