প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০১৯ ৪:০৭ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
উপলক্ষে কুতুপালং ক্যাম্পের মহাসমাবেশে রোহিঙ্গাদের বিশাল একটি অংশের গায়ে জড়ানো ছিল সাদা টি-শার্ট। সেখানে ইংরেজিতে লেখা, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। কক্সবাজারের একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার প্রশ্ন, ভিতরে কি কোনো গার্মেন্ট কারখানা আছে? এই টি-শার্টগুলো কি সেসব গার্মেন্টে বানানো হয়েছে? রোহিঙ্গারা কি ইংরেজিতে সব স্লোগান লিখেছেন? মানুষের হাতে হাতে থাকা সব প্লাকার্ডে ইংরেজি হরফে লেখা দাবিগুলো কি রোহিঙ্গারা নিজেরাই লিখেছেন? আসলে রোহিঙ্গারা কি এটা জানে প্লাকার্ডে কী লেখা ছিল? নাকি অন্য কেউ তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক এই চর্চায় অভ্যস্ত করছে? গত কয়েক দিন কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে জানা যায়, মানবতার মিশন নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের নামিদামি এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গাদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে যাচ্ছে।

সংকটে মানবিক সহায়তার নামে তারা নিজেরাই হয়ে উঠেছে একটি পক্ষ। এমনকি রোহিঙ্গাদের ফেরত না যাওয়ার পেছনে তাদের ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ সরাসরি তুলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অভিযোগকারীর তালিকায় আছে কক্সবাজারবাসী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংসদীয় কমিটি, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

অভিযোগ সত্ত্বেও কক্সবাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক এনজিওর দামি দামি গাড়ি। পাঁচ তারকা হোটেলগুলো বোঝাই হয়ে আছে এসব সংস্থার কর্মকর্তাদের ভিড়ে। সন্ধ্যা নামতেই তারা আলো-আঁধারির খেলায় রঙিন পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। দামি হোটেলের লবিগুলোর সব চেয়ারই বিদেশিদের দখলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের পর বছর চেষ্টা করে মানবিক কাজের জন্য ডোনার বা ফান্ড জোগাড়ে ব্যর্থ ৯০% এনজিও এখন ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। এসব এনজিও বিদেশি ডোনার এজেন্সির পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারাও বিদেশি এনজিওগুলোর মতো রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত না যাওয়ার বিষয়ে প্রলুব্ধ করছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা দেশি-বিদেশি এনজিওর কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার ইন্ধন দিয়েছেন। এখন ফেরত না যেতে তারা উৎসাহিত করছেন এমন অভিযোগও আছে।
জাতিসংঘ সংস্থা থেকে শুরু করে এমন কোনো এনজিও নেই, যারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায়। এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যেতে উৎসাহিত করছে।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগস্টের শুরু থেকেই ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরকারের প্রশাসনের লোকজনের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় নিজ দেশে ফিরে গেলে সবদিক থেকেই রোহিঙ্গাদের ভালো বলে বিভিন্নভাবে জানানো হয়। কিন্তু প্রশাসনের এসব আলোচনার আগেই প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর শিখিয়ে দিয়েছিল এনজিওগুলো, যার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির আগের দিন ৬১ এনজিওর বিবৃতিতে। এতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দুই বছর ধরে উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে সহায়তা করে আসছে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে, বর্ষার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এতটুকু যথেষ্ট নয়। আরও অনেক কিছু করা দরকার বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এমনকি রোহিঙ্গাদের প্রাকৃতিক পাহাড় কেটে বাড়িঘর তৈরি করতে উৎসাহী করা হচ্ছে, যেন তাদের ভাসানচরে যেতে না হয়।

সরকারের সূত্রগুলোর খবর, রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। সেই পরিকল্পনা বাদ না হলেও এখন ভাসানচরের চেয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ওপরই জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের তথ্যমতে, এই পরিকল্পনাতেও মূল বাধা হলো আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। এরা রোহিঙ্গাদের ভাসানচর কিংবা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিদেশি এনজিওগুলোতে ১২ হাজার থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা বেতনের নিয়মিত চাকরিরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫-৬ হাজারের মতো। সহজেই এদের দিয়ে তারা মিয়ানমারে ফেরত না যেতে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে উসকানি ও প্ররোচিত করছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকারকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, মানবিক কারণে দুই বছর আগে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের বেলায় খুব বেশি দরদ দেখানো হচ্ছে বলেই রোহিঙ্গাদের স্পর্ধা বেড়ে গেছে। তারা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মিছিল করার দুঃসাহস পেয়েছে। তাই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো ধরনের নমনীয়তা না দেখিয়ে দ্রুত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও ওদের ইন্ধন জোগাচ্ছে। সরকার কিছু এনজিওকে নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি কিছু রোহিঙ্গা নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘তারা প্ররোচনা দিচ্ছে যে, তাদের না যাওয়া উচিত। আমরা তাদের ওপর একটু নজরদারি করব, কারণ তারা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ভঙ্গ করছে। আর এখানে অনেক মাঝি আছেন, যারা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নেতা। তাদের অনেকে বিভিন্ন রকম অপকর্মে লিপ্ত আছেন, আমরা তাদের শাস্তি দেব।

’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়াগুলোকে তারা রাখাইনে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেবেন। আমরা বাকি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বলব যে বাংলাদেশে এখানে সারাক্ষণ হৈচৈ না করে, আপনারা বরং রাখাইনে গিয়ে কাজ করেন। ওখানে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে কি-না, সেটা দেখেন। মিডিয়ারও রাখাইনে যাওয়া উচিত। ’ এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রবেশে বা কোনো বেসরকারি সংস্থার কর্মকা- চালানোর ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করার বিষয় সরকারের আলোচনায় রয়েছে।

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...
Single Page Footer