ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২১/০৬/২০২৩ ৭:৩২ এএম

বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হন বাংলাদেশি নাগরিকেরা। এমন ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শীঘ্রই দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পতাকার বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফেরানো হবে। মিয়ানমারে বন্দি থাকা স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব সুফিয়া আক্তার স্বাক্ষরিত একপত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীর নয়জন, টেকনাফের সাতজন, উখিয়ার একজন, বান্দরবানের তিনজন ও রাঙামাটি জেলার চারজন বাসিন্দা রয়েছেন।
তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পাচারকারীদের খ‌প্পরে পড়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র হাতে আটক হয়েছিলেন। এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনেরা আবেদন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

সচিব সুফিয়া আক্তার ১৬ জুনের ওই পত্রে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে বন্দিদের প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও সেবা বিভাগের সচিব, (যুগ্মসচিব অভিবাসন-১) কে অবহিত করা হয়েছে ।
এছাড়াও বিজিবির মহাপরিচালক, বাংলাদেশস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের পরিচালক (কনস্যুলার) এবং মিয়ানমারের সিটওয়ের কনসাল এবং মিশন প্রধানকে চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করেছেন। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) কে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নাগরিকদের হস্তান্তর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে পাচারের শিকারের স্বজনেরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এতে প্রায় ২৯ জনের আবেদন পায় মন্ত্রণালয়। এরপর যোগাযোগ করে মিয়ানমার দূতাবাসের সঙ্গে।
অপরদিকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাওয়া আবেদনগুলো বাংলাদেশি নাগরিক কিনা সেটি নিশ্চিত হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, বহিরাগন-১ শাখায় পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরবতীতে পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এর সত্যতা যাচাই করে। তদন্ত শেষে ১৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. কামরুজ্জামান ২৩ জনের নাগরিকত্ব যাছাইয়ের প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেন।
ওই প্রতিবেদন অনুয়াযী মিয়ানমারে অবস্থানরতরা বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হন। এরপর ফিরতি প্রতিবেদন মিয়ানমারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠায়। এতে প্রথম ধাপে ৯ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০ জনের মধ্যে ১৪ জনকে বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করে। বাকী ছয়জনের সাজা শেষ হয়নি।
যেসব বাংলাদেশিকে দেশ ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তারা হলেন, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গপাড়ার আনছারুল হকের পুত্র শাকের উল্লাহ (২৮), মুন্সির ডেইলের কামাল পাশার পুত্র এহলাছ মিয়া (২৬), আবুল কালামের পুত্র শফিউল আলম (২৫), হোছন মোহাম্মদ এর পুত্র পারভেজ মোশারফ (২৪), রাহমত উল্লাহর পুত্র মিজানুর রহমান (১৮), মাইজপাড়ার আলতাজ হোসেনের পুত্র মোবারক মিয়া (২৪), লম্বাঘোনা এলাকার আবদুর রহিমের পুত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২২), দেবাঙ্গপাড়ার আবদুল শুক্কুরের পুত্র ছালামত উল্লাহ (১৭), মহেশখালী পৌরসভা বড় রাখাইনপাড়ার ইউ হ্লা মং এর পুত্র মংটিন রাখাইন (৪২)।
এছাড়া উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী মাদারবনিয়া এলাকার নুরুল আলমের পুত্র মোহাম্মদ শাহেদ (১৮), টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইট্যংপাড়ার শামসুল আলমের পুত্র মো. এরফান (২২), নুর হোসাইনের পুত্র মো. ইলিয়াছ (১৯), মো. সালামের পুত্র জহির আহমদ (৩১), জালিয়াপাড়ার মো. ইব্রাহীমের পুত্র মো. আবদুল আজিজ (২১), ইব্রাহীমের পুত্র মো. তৈয়ব (৩২), হ্নীলা ইউনিয়নের দক্ষিণ লেদা এলাকার হায়দার আলীর পুত্র আবু সিদ্দিক (২৭), নুর ইসলামের পুত্র মো. রুবেল (২০)।
ফেরার তালিকায় আরো রয়েছেন, বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং কাবুকপাড়ার মংছিন মারমার পুত্র ছিন তু মং মারমা (৩২), লামা ফাঁসিয়াখালীর ইউ তু ছিং এর পুত্র টার তুন হ্লা (৩৬), বান্দরবান সদরের কুহালং কাবুকপাড়ার ইউ এরি মন এর পুত্র তুচিং প্রু মারমা (২৩), রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার কাজাখালী পাড়া বেতবুনিয়াপাড়ার উ হ্লা তুনে পেওয়ের পুত্র পুত্র ইয়াংচা থোয়াই মারমা (২৬), রাঙামাটি কাউখালী বেতবুনিয়া এলাকার আর পিও ছিং এর পুত্র ইউ থান রাং (৩৪), নিজপাড়ার চুই বাই অং মারমার পুত্র উশিচিং মারমা (৩০)। এরা সকলেই জেলে, কৃষক, শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবী ছিলেন।

পাঠকের মতামত

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেল পরিচয়ে প্রতারণা ও পর্যটককে হুমকি দেয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল সীগালের ...

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে’ ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই ...
Single Page Footer