
চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে (UNHCR) এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়নি। তবে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন যোগ্য মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মিয়ানমার পরিস্থিতি বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। তবে নিবন্ধিত নন এমন রোহিঙ্গাদের এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটি সরাসরি যুক্ত নয়। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘নিউ এজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রেইজেন বলেন, মিয়ানমারে গত কয়েক দিনে নতুন করে সংঘর্ষ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরাকান আর্মির (Arakan Army) মুখোমুখি অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক নয়।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে শরণার্থীকেন্দ্রিক, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ। শরণার্থীরা যেন সব তথ্য জেনে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তার আগে তাদের ফেরত পাঠানো উচিত নয়।
ফ্রেইজেন বলেন, রোহিঙ্গাদের এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানোর কোনো অর্থ হয় না, যেখানে তারা ফিরে গিয়ে বসবাসের সুযোগ না পেয়ে আবারও বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারবেন, সেই সিদ্ধান্ত শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত না করে নেওয়া উচিত নয়।
ফ্রেইজেনের ভাষায়, ‘আমাদের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা শুনতে হবে। কখন ফিরবে, আদৌ ফেরার সময় হয়েছে কি না, সেটি উপযুক্ত, সম্ভব ও নিরাপদ কি না, এসব সিদ্ধান্ত দূর থেকে নেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার এই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছে এবং এতে শরণার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।
ফ্রেইজেনের মতে, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। যে পরিস্থিতির কারণে তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, সেসব কারণের সমাধান হয়েছে কি না, তা যাচাই করার সুযোগও তাদের থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শরণার্থীদের নিজেদের বিচার-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে ইউএনএইচসিআর উদ্বিগ্ন হবে।
এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। ওই সময় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। সুত্র, newage


পাঠকের মতামত