প্রকাশিত: ০৭/১০/২০১৮ ৮:৫৭ এএম

ডেস্ক নিউজ – মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাদের নামে থাকা সব ধরনের লেনদেন খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি দেয়া হয়। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মাদক ব্যবসায়ীদের নামে থাকা হিসাবের লেনদেন তদারকি করে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪৮টি সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদনে (এসএআর) শনাক্ত করেছে। এগুলো বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা, এতে অর্থ বিনিয়োগ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিএফআইইউ মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করছে। এ কারণে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আলোকে ১৬ জুলাই বিএফআইইউ থেকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দিয়ে এদের নামে থাকা সব ধরনের লেনদেন খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাদের নামে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যাংক হিসাব আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। পর্যালোচনা করে যদি কোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় তবে সেগুলোর বিষয়ে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনুসন্ধান করে ৪৮টি হিসাবের সন্দেনজনক কার্যক্রম শনাক্ত করেছে। এগুলোকে সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন হিসেবে বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব তথ্য পাঠিয়েছে।

বিএফআইইউ এগুলোকে তাদের তথ্য ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এগুলোর বিষয়ে আরও বিশদ তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে এসব বিষয়ে তদন্ত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তাও নেয়া হবে। বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং দমন কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় ট্রাস্কফোর্সের তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বলা হয়, মাদক ব্যবসায় জড়িত, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে রয়েছে। ওই তালিকাটি বিএফআইইউতে পাঠানোর জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে বলা হয়েছে।

বিএফআইইউ থেকে তালিকাটি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হবে। ওই তালিকা ধরে তারা অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে বিএফআইইউকে জানাবে। সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিনিধি জানান, যথাযথ তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়নে সময়ের প্রয়োজন। তবে আগামী বৈঠকের আগেই এ তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

পাঠকের মতামত

এনসিপির গাড়িতে আবারও হামলা

এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িতে হয়েছে হামলা। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে ...

মিয়ানমারের সম্মতি: ফিরছে ৩ লাখ রোহিঙ্গা, মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন এক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার ...

টেকনাফের একরামুল হত্যা : সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট ...

টেকনাফের একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে ...

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করবেন থানা-উপজেলা নেতারা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ...

সব বাধা পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা ...
Single Page Footer