প্রকাশিত: ২৮/১২/২০২০ ১০:৩৩ পিএম

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে দ্বিতীয় দফায় স্বেচ্ছায় আরও প্রায় ১৭০০ রোহিঙ্গা ভাসনচরে যাচ্ছে। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেন রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফার প্রথম দল। দ্বিতীয় দলে সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকটি বাসে আরও ৬০০ রোহিঙ্গার যাত্রা করার কথা রয়েছে। তারা সবাই মঙ্গলবার দুপুরে ভাসানচরে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এর আগে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বাসে করে এনে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে রাখা হয়। এরপর সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে যাত্রা করেন তারা।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘সোমবার কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা দলটি ভাসনচরে উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেন। তারা রাতে চট্রগ্রামে থাকবেন। সকালে (মঙ্গলবার) তাদের নিয়ে ভাসানচরে রওনা দেওয়া হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি আমরা। এ যাত্রায় রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৭০০ এর বেশি হতে পারে।’

প্রথম ধাপে গত ৪ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ভাসানচরে পৌঁছেছিল ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। আগেরদিন ভাসানচরে যেতে আগ্রহী এ রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে গাড়িতে এনে চট্টগ্রামে শাহিন স্কুলের ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। এবারও সেভাবেই নিয়ে যাওয়া হবে তাদের জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় ২৩টি বাস ভাসানচরে যাত্রা করেছে। ওইসব বাসে ১১৩৪ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। সন্ধ্যায় বেশ কয়েকটি বাসে আরও ৬০০ এর বেশির রোহিঙ্গা যাত্রা করবে।’

সোমবার সকালে সরেজমিনে টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শরাণার্থী শিবিরে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পে বাস এলে সিআইসি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গাড়িতে তোলা হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর তাদের মালপত্র ট্রাকে লোড করা হয়। এসময় তাদের বিদায় দিতে স্বজনরা সেখানে ভিড় করেন। পরে বাসে করে উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্ট ও কলেজের অস্থায়ী ট্রানজিট ঘাটের কার্যক্রম শেষ করে তাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দ্যেশে রওনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি এবং টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা (সিআইসি) নওশের ইবনে হালিম বলেন, তার শিবির থেকে স্বেচ্ছায় ১০০ রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। সকালে তারা ক্যাম্প থেকে উখিয়ায় যান। এর আগে প্রথম দফায় এ শিবির থেকে ২১ পরিবার ভাসানচরে গিয়েছে।

ছোট বোন সঙ্গে নিয়ে ভাসাচরে উদ্দেশে যাত্রাকালে টেকনাফ শালাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আর বোন নিজের খুশিতে ভাসানচর চলে যাচ্ছি। কেউ আমাদের জোর করেনি। এই ক্যাম্প থেকে আরও অনেকে যাচ্ছে। তাছাড়া ভাসানচরে যারা গেছে, তারা অনেক ভালো আছে বলে ফোনে জানিয়েছে। তাই আমরা উন্নত জীবনের আশায় সেখানে যাত্রা করছি।’

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ইমান হোসেন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভাসানচর পাড়ি জমানোর সময় বলেন, ‘ক্যাম্পে অনেক কষ্টের জীবন। সেখানে অনেক ভালো শুনেছি, তাই চলে যাচ্ছি। এতদিন এখানে বসবাস করেছি, এজন্য একটু কষ্টে হচ্ছে।’

জানতে চাইলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোশারফ হোসেন জানান, ‘রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দলটি সোমবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে নৌ-বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমরাও ভাসানচরে সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

মুঠোফোনে ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির জানান, ‘মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে পৌঁছাবে। আরআরআরসি কার্যালয় থেকে আমাদের ২ হাজার মানুষের কথা বলা হয়েছে। আমরাও সেভাবে তাদের গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বাস করছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...