ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৭/০৪/২০২৫ ৮:৫১ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে’ সরকারি চাকরির আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা মনিরের, ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা গায়েব!

সরকারের পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই উখিয়ায় বেড়েছে ফের মাদক কারবার। গত ১১ এপ্রিল কোস্টগার্ড ও র‍্যাব -১৫ এর যৌথ অভিযানে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং ২১ জন আসামী গ্রেফতার করে। তবে পাচারকারী আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা। ফলে রমরমা চলছে মাদক ব্যবসা, হচ্ছে না বন্ধ মাদক কারবার।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ও বালুখালী কেন্দ্রীক নতুন-পুরাতন মাদকের অসংখ্য সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কারবারিরা রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারের ওপার থেকে এপারে ডুকাচ্ছে মাদক।

সীমান্তবর্তী এলাকায় ধামনখালী ও রহমতের বিল সীমান্তের একাধিক মাদক কারবারি সিন্ডিকেটের তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়াও সীমান্ত কেন্দ্রীক বাড়ি হওয়ার সুবাধে তারা অনায়সে এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন কঠোর থাকার পরেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সীমান্তের কারবারিরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্য সুত্রে জানা গেছে, এসব কারবারিদের মধ্যে গডফাদার হিসাবে কাজ করছে মোহাম্মদ মনির তার ভাই সাইফুল প্রকাশ (সাইপা)সহ একাধিক সিন্ডিকেটের নাম শুনা গেছে এলাকাবাসীর কাছে।

জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম (৩৮) ওই এলাকার জবর মুল্লুকের ছেলে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি মোস্তাক ও মোক্তারের আপন ছোট ভাই । বর্তমানে সে “উখিয়ার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাঠকর্মী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। সে ওই চাকরির আড়ালে মায়ানমারের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি রোহিঙ্গা নবী হোসেনের আঁতাত করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার করে আসছিলো। বিভিন্ন সময় তার মাদকের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ায় বিভিন্ন মামলার আসামি হলেও পার পেয়ে যায় সে। হত্যা মামলা ও মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকায় বর্তমানে চাকরি থেকে মনির’কে ওএসডি অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানা যায়। বর্তমানে তার মাদক ও হত্যা মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মনিরের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম প্রকাশ (সাইপ্পা) বছর দেড়এক আগে বার্মাইয়া নবী হোসেনের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন অপকর্ম ও মাদক এবং স্বর্ণ চালান নির্বিঘ্নে করতে নবী হোসেনের ডেরায় থাকতো। সেই সুবাধে মনির সুযোগ পেয়ে এসব কাজে জড়িয়ে পড়েন।

গত ১০ এপ্রিল রাত ৩ টার দিকে মিয়ানমাের রেঙ্গুন থেকে ২ লাখ ইয়াবা জামাই মোস্তাফাকে পাটালে ১লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েব করে দে মনির এমন অভিযোগ স্হানীয়দের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় যুবক জানান, বহুদিন ধরে মনির ইয়াবার সাথে জড়িত মনিরের ইয়াবা লুটপাটের ঘটনা লোক মুখে শুনা যাচ্ছে।

মনিরের বোনের জামাই বক্তার আহাম্মদ কয়েকমাস আগে র‍্যাব -১৫ হাতে ইয়াবাসহ আটক হয় সেই এখনো জেলহাজতে রয়েছে।

১৫ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে মনির ও তার ছোট ভাই সাইফুল প্রকাশ ( সাইপ্পা) উত্তর রহমতের বিল এলকায় নুরুল আলমের ছেলে উখিয়া কলেজের ছাত্র ইকবাল হাসানের উপর হামলা করেন। এতে ইকবাল হাসান গুরুতর আহত হলে স্হানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে উখিয়া থানার একটি অভিযোগ দায়ের করেন ইকবাল হাসান। মনিরের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম প্রকাশ (সাইপা),ইকবাল হাসানের ব্যবহারের একটি এন্ড্রয়েট মোবাইল প্যান্টের পকেট হইতে নগদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়া ফেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মনিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এইটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে জানতে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফ হোসেন জানান, মনিরের ইয়াবা লুটপাটের ঘটনায় আবগত নাই ।

তবে মাদক কারবারে যাকে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাকেই আইনের আওতায় আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে জোরদার রয়েছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।

পাঠকের মতামত

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...