
মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা আনার সময় ব্যবহার করা হচ্ছিল অভিনব কৌশল। কাঠের তৈরি বিশেষ ধরনের ডুবন্ত ক্যারিয়ারকে (সাবমেরিন) ইয়াবা দিয়ে ভর্তি করে ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছিল একটি চোরাচালান চক্র।
এমন একটি চক্রের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ ঘটনায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
৬৪ বিজিবির মিডিয়া হলরুমে মঙ্গলবার বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।

আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার বালুখালী রহমতের বিল এলাকার ফরিদের ছেলে মো. রকি আহমেদ (২৬), বালুখালী নলবনিয়া এলাকার নুর আলমের ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৫) এবং বালুখালী মধ্যম ফারির বিল এলাকার খোরশেদ আলম (২৬)।
যেভাবে চালানো হয় অভিযান
বিজিবি জানায়, ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পালংখালী বিওপির একটি টহল দল। এ সময় মনিরের ঘেরের একটি মাচাংঘরের পাশে চার থেকে পাঁচজনকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একটি মোবাইল ফোন, নয়টি কপিকল, বিশেষ ধরনের একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যাটারি, একটি ইলেকট্রিক মোটরসহ ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পরে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয় বলে জানায় বিজিবি।
পানির নিচ দিয়ে যেভাবে আসত ইয়াবা
বিজিবির দাবি, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ডুবন্ত ক্যারিয়ারে করে ইয়াবার চালান আনা হতো সীমান্তবর্তী এলাকায়। এরপর ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে ক্যারিয়ারটি পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে টেনে নেওয়া হতো।
খালের আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিতে চোরাকারবারিরা ব্যবহার করত কপিকল ও স্টিলের তার। একেকটি বাঁক অতিক্রম করার সময় ছোট কপিকল খুলে পরবর্তী অংশে স্থাপন করা হতো। ফলে পানির ওপর থেকে সহজে দেখা না গেলেও ক্যারিয়ারটি ধাপে ধাপে সীমান্ত থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে নেওয়া সম্ভব হতো।
বিজিবির ধারণা, এ ধরনের একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকার সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে রশি টেনে ইয়াবা পাচারের সময় ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।
৬৪ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত