প্রকাশিত: ৩০/০৯/২০১৮ ৭:৪২ এএম

শামিম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি::
রামুর কচ্ছপিয়াতে আবু সুফিয়ান নামের এক কুরআনে হাফেজকে পার্বত্য লামা পৌর এলাকার কথিত শশুর বাড়ির লোকজন কর্তৃক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে গত শুক্রবার ভোররাতে অথবা বৃহস্পতিবার দুপুরে হত্যা করা হয় লামার কমলার ঘোনা এলাকায়। মৃত এ হাফেজ কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের নতুন তিতার পাড়ার শফিকুর রহমানের ছেলে। তার বয়স (১৭)। গত ২৯ সেপ্টে¤॥^র শনিবার দুপুরে গর্জনিয়া পুলিশের এক দল সদস্যের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়েছে পূর্বতিতারপাড়াস্থ কবরস্থানে। এ ঘটনার পর বর্তমানে পুরো তিতার পাড়া এলাকার চলছে শোকের মাতম।

হাফেজ আবু সুফিয়ানের পিতা শফিকুর রহমান ও মা ছেনুয়ারা বেগম দাবী করেন, তাদের আদরের এ সন্তান কুরআনে হাফেজ হওয়ার পর আরো উন্নত পড়া লেখা করতে চট্টগ্রাম যায় বেশ কয়েক বছর। এরই মধ্যে তাদের এক দূর আত্মীয় আবু সুফিযানকে ফুসলিয়ে চট্টগ্রাম আসা যাওয়া পথে লামা পৌরসভার চরৈ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওর্য়াডের ক্যউজরপাড়ার কমলার ঘোনা নিয়ে যায়। সেখানে সুফিযানের তাদেরকে না জানিয়ে আছমাউল হোসনা নামের এক কিশোরীকে গোপণে বিয়ে পড়িয়ে দেয় তার সেই আত্মীয়রা। পরে বেকার এ হাফেজকে নিয়ে শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে আবু সুফিয়ানের মনোমালিণ্য হয়। আর এরই সূত্র ধরে আবু সুফিয়ান বনাম তার শশুর মাহমদুল হক ও সুফিযানের বৌ’র বড়ভাই সাদ্দাম হোসেনের সাথে প্রকট ঝগড়া বাঁেধ বুধবার দুপুরে। বিষয় ছিলো বিয়ের চুক্তি নামা ছিড়ে ফেলা। পরে এ নিয়ে আবু সুফিয়ানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে সে মারা যায়। তারা আরো জানান, কিন্তু কুটকোশলী সাদ্দাম ও তার পিতা মাহমদুল হক এ ঘটনাকে সাজিয়ে ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টা করছে বর্তমানে। তাদের সন্তানের খুনি সাদ্দাম ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। তাদের গ্রেপ্তার করে উচিৎ শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক।

পক্ষান্তরে নিহতের স্ত্রী আছমা ও শাশুড়ি মোসতফা খাতুন আবু সুফিযানের মিতা-মাতার অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান,তাদের জামাইয়ের সাথে কামিন নামার স্টাম্প ছিড়া নিয়ে পরিবারের কর্তা সাদ্দামের সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এতে এক পর্যায়ে আবু সুফিয়ান রাত ১২ টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে বিষ পান করে বাড়িতে এসে ছটফট করতে থাকলে তাকে উদ্ধার করে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তারা। ওখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার। পরে চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে তারা।

কিন্তু ঘটনা যেখানেই হোক না কেন লাশ রামুর কচ্ছপিয়ার তিতার পাড়ায় খবর পেয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর নির্দেশ দেন তার অধীনস্ত গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁকে। নির্দেশ পেয়ে ফাড়িঁর ইনচার্জ এএসআই নুরুল্লাহর এবং এএসআই মনজুর ইলাহী সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনা¯লে যান। পুলিশ কর্মকর্তারা এ নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্তনা দেন। আর নিহত আবু সুফিয়ানের পরিবারকে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন । তবে ঘটনা যেহেতু বান্দরবানের লামায় সুতারাং তাদের আপাতত করার কিছুই নেই বলে নিহতের লাশ দাফনের নির্দেশ দেন। সুফিয়ানের পরিবার বাধ্য হয়ে এ নির্দেশ পালন করলেও আজ-কালের মাধ্যে আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তাদের পরিবার।

কিন্তু সচেতন মহলের দাবী এই বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হউক। তাদের মধ্যে অন্যতম কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মহিলা ইউপি মেম্বার সাবেকুন্নহার সহ অসংখ্য লেঅক। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর জানান, ওই ঘটনাটি তার (ওসি) এর এলাকায় হয়নি। এই ব্যাপারে লামা থানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে তিনি পুলিশ দিয়ে যতটুকু সহায়তা দরকার তা করেছেন এবং আরো করবেন প্রয়োজনে ।

পাঠকের মতামত

মাদক উদ্ধার ও সাহসিকতায় সম্মাননা পেলেন ওসি মোহাম্মদ আলী

সর্বোচ্চ মাদক উদ্ধার এবং সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ...

অপহৃত শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা যুবক গ্রেপ্তার

অপহৃত এক শিশুকে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে জকরিয়া (৩০) ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে প্রতিবেদন করায় , সাংবাদিক টিপুর বিরুদ্ধে মামলা

টেকনাফের ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে গত ১৭জুলাই থেকে প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক ...
Single Page Footer