
মিয়ানমারে পূননির্বাচিত হতে যাওয়া অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন দল এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যদিও মিয়ানমারের নির্বাচনে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তবুও দেশটির নতুন সরকারকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। সরকার গঠনের পরপরই চীনের মধ্যস্থতায় সুচির উপস্থিতিতে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে দ্রুত আলোচনার আগ্রহও পূনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিবেশি মিয়ানমারে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন বিষয়ে ঢাকার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার বিকালে নিজ দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। লিফটের গোড়ায় আগে থেকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মন্ত্রী মোমেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা এ নিয়ে বরাবরই ইতিবাচক। এই মুহুর্তে বলতে চাই, আর দেরি নয়। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে বেইজিংয়ে প্রস্তাবিত তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি হোক।
এমন বৈঠক আগেও হয়েছে তবে তা সফলতা পায়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চীনের উদ্যোগে আগেও আলোচনা হয়েছে, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু গত তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও রাখাইনে ফেরত পাঠানো যায়নি। কারণ রাখাইনে ফেরার প্রশ্নে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থার ঘাটতি বা অবিশ্বাস রয়েছে। অং সান সূচি সরকারকেই তা দূর করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সম্প্রতি
জানিয়েছে, রাখাইনে প্রত্যাবাসনে উপযোগী যেসব কর্ম হয়েছে তা নিয়ে তারা একটি বুকলেট প্রকাশ করেছে। রাখাইনের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে এ বুকলেট নাকী রোহিঙ্গাদের দেয়া হবে। বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে বলে সম্প্রতি তারা চীনকেও আশ্বস্ত করেছে জানিয়ে মন্ত্রী মোমেন বলেন, ক’দিন আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই টেলিফোনে আলাপকালে মিয়ানমারের তরফে পাওয়া ওই আশ্বাসের বিষয়টি ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার করেছেন। সে দিনের আলাপে বেইজিং জানায়, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ চলেছে।
উল্লেখ্য, ৮ই নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে মিয়ানমারে অং সান সু’চির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন প্রশাসন সাজাতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রেজাল্ট ঘোষণা না হলেও ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির তথ্য কমিটির মুখপাত্র মনয়ওয়া অং শিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, মিয়ানমার পার্লামেন্টের ৬৪২ আসনের মধ্যে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে ৩২২-এর বেশি আসনে জয় পেয়েছেন।

পাঠকের মতামত