প্রকাশিত: ০৫/০৭/২০১৯ ৪:৫৪ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফের জেলেপাড়া (জালিয়াপাড়া) এক সময় ছিল হতদরিদ্রের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ির এক অপরিচ্ছন্ন জনপদ। প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা মরণনেশা ইয়াবা বড়ি বদলে দেয় এখানকার জীবন চিত্র-দৃশ্যপট। সেই জেলেপাড়ায় হঠাৎ গড়ে উঠতে থাকে সুরম্য সব আলিশান প্রাসাদ।

অধিকাংশ বাড়িই গড়ে তোলা হয়েছে মরণনেশা ইয়াবা বড়ি বিক্রির টাকায়। গড়ে তোলা হয় ডুপ্লেক্স আর ট্রিপ্লেক্সের যত বিলাসবহুল বাড়ি। এসব বাড়িগুলোতে দেশের বাইরের মারবেল পাথর, বিদেশী টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়িগুলোর বাইরের দৃশ্য এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বাড়ির ভেতরের প্রতিটি কক্ষ সাজানো হয়েছে বিদেশি আসবাবপত্র ও সামগ্রী দিয়ে।

শুধু জালিয়াপাড়া নয়, টেকনাফের প্রতিটি গ্রাম ও পৌর শহরে এখন শোভা পাচ্ছে ইয়াবা কারবারিদের আলিশান বাড়ি-বহুতল ভবন। গত বছরের মে মাসে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব আলিশান বাড়ির দিকে নজর পড়ে প্রশাসনের।
অক্টোবর থেকে এসব বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসন, যা এখনো চলমান। ইতোমধ্যে রাতের আঁধারে অনেক ইয়াবা কারবারির প্রাসাদোপম বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের ১নং শীর্ষ ইয়াবা কারবারী হাজী সাইফুল করিমের বিলাসবহুল বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে আংশিক ভেঙ্গে ফেলা হয়। সর্বশেষ গত ২৬ জুন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের বাড়িটি গায়েবী হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে সুনিদৃষ্ট তথ্য মেলেনি। এর আগে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার একসময়ের রিক্সা চালক নুরুল হক ভুট্টোর প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা মুল্যে প্রাসাদপ্রমো বাড়িটি প্রশাসন দখলে নিয়েছে। আদালতের নির্দেশেই বাড়িটি দখলে নেওয়া হয় বলে জানান টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ঘনিষ্ঠ ইয়াবা কারবারির বিলাসবহুল বাড়িতে বুলডোজারের কোনো আঁচড় লাগেনি। কেন লাগেনি তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন স্থানীয়দের। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনও নিশ্চুপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু আবদুর রহমান বদি কিংবা জাফর আহমদ চেয়ারম্যানের স্বজন-ঘনিষ্ঠরা নয়, যেসব ইয়াবা ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ইয়াবার টাকায় গড়া তাদের বিলাসবহুল বাড়িতেও প্রশাসনের বুলডোজারের আঁচড় লাগেনি। এ রকম দুই শতাধিক বাড়ি সাক্ষ্য দিচ্ছে প্রশাসনের এ দ্বৈতনীতির।

দক্ষিণ জেলেপাড়ায় (জালিয়াপাড়া) ইয়াবা কারবারি মো. জুবায়েরের তিনতলা বাড়িটির বাইরে থেকেই চোখ ধাঁধানো। অথচ বাড়িটির আশপাশের সবগুলোই ভাঙা বেড়ার ঘর, উপরের ছাউনি পলিথিনের। এখানকার নিম্ন আয়ের সব মানুষই দিনমজুর অথবা জেলে। জুবায়ের একসময় ছিঁচকে চোর হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে ইয়াবা কারবারি হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, বাড়িটির ভেতরটা জৌলুসপূর্ণ যা সচরাচর শহরেও চোখে পড়ে না।
জুবাইরের বাড়ির কাছেই আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিকের নাম মোজাম্মেল, যিনি একসময় পৌরসভার লামার বাজারে একটি পলিথিনের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। পুলিশ তার বাড়ির সীমানা দেওয়ালের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে। তবে বাড়িটি অক্ষুন্ন আছে।

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এবং তার তিন ছেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। গত ৫ বছরে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি বড় আয়তনের বাড়িসহ তিনটি বাড়ি ও টেকনাফ শহরে একটি তিনতলা মার্কেট। টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন ও তার ভাই বাহারছড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিনও তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়া গ্রামে তারা নির্মাণ করেছেন দুটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য মাহমুদুর রহমানের বাড়িটি চোখ ধাঁধানো। টেকনাফ থানার পাশেই তিনি গড়ে তুলেছেন তিনতলা মার্কেট। সাবরাংয়ের স্বর্ণ চোরাচালানি মাহমুদুল হক মাদুও করেছে বিলাস বহুল বাড়ি, করেছে মার্কেটও।

বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী আবুল বশরও করেছে একাধিক বাড়ি। এছাড়াও রোহিঙ্গা নুর হাফেজের হোয়াইক্যং সাতঘরিয়ারপাড়ার বিলাস বহুল বাড়ি, স্থানীয় রাকিব আহমদের বাড়িও অক্ষত। গত তিন বছরের কম বেশি সময়ে নির্মিত এসব বাড়িতেই প্রকাশ্যে চলেছে ইয়াবা কারবার। এজন্য বাড়ির পাহারায় সার্বক্ষণিক লোক নিয়োগের পাশাপাশি বসানো হয় একাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। পুলিশের সহযোগিতায় টেকনাফ পৌর এলাকা, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ও সাবরাং ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ৪০টিরও বেশি প্রাসাদতুল্য বাড়ির কম বেশি ভাঙা হয়েছে।

কিন্তু দুই শতাধিক বাড়িই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৭৩ ইয়াবা কারবারির বেশিরভাগের বাড়িতে কোনো ধরনের আঁচড় প

পাঠকের মতামত

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে লাগবে আরও কিছুটা সময়’

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের থেরাপি চিকিৎসা উন্নতির ...

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামী, ক্ষোভে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী অন্য এক ...

কক্সবাজার লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কক্সবাজার পৌরসভাধীন কলাতলি লাইট হাউজ এলাকাস্থ দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার পরিচালনা, মার্কেট ও মসজিদের ...

রামুতে সূর্যের হাসির চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

কক্সবাজারের রামুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক। ...
Single Page Footer