
আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ::
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে কক্সবাজার জেলায় প্রকাশ্যে কোনো লবিং- গ্রুপিং না থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছে নানা লবিং-গ্রুপিং। নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় যেন দিন কাটছে জেলা আওয়ামী লীগের। নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ কী হবে তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোও। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির নেতৃত্বে কারা আসছেন তাই এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬ সালে ১ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুুুষ্ঠিত হয়। সে সময় অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাকে সভাপতি ও মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। পরবর্তী সময়ে ৭৭ জনকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। এ কমিটিতে কয়েকজন তরুণ ওঠে এলেও বাদ পড়েন অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ। এ কমিটি নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়।
বর্তমানে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে সম্মেলনে আভাস নেই। দল ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক কর্মকান্ডের চেয়েও নেতারা বেশি ব্যস্ত ব্যবসা নিয়ে। তবে সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন বিধায় শহরে তার সমর্থক ও কর্মী রয়েছে অনেক বেশি। ফলে তিনি রাজনৈতিক সভা-সেমিনারে সক্রিয় থাকেন।
২০১৮ সালের ২৫ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর দলে তার প্রভাব আরও বাড়তে থাকে। বলতে গেলে দলকে নিজের অধীনস্থ করেন তিনি। প্রকাশ্যে দলে কোনো গ্রুপিং না থাকলেও ভেতরে ভেতরে একটি অংশ সাধারণ সম্পাদক মুজিববিরোধী রয়েছে। এর কারণ হলো ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জেলা কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাদ পড়ে যান। পরবর্তী সময়ে তারা ঘরমুখো হয়ে পড়েন। কিন্তু দল দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় অন্য দলের লোকজনও আওয়ামী লীগে ভেড়েন। যার পুরো অংশ সম্পাদকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে মামলা-মোকদ্দমায় বিপর্যস্থ চার দেওয়ালে থাকা নেতাকর্মীদের আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বিএনপির নেতারা। এর ফলে কঠিন হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপির রাজনীতি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামনে সব সময় বাঁধার দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সরকারি বাহিনী পুলিশ। ফলে কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন থাকে না।
অতীত ক্ষমতার সাধভোগকারী দলের শীর্ষ নেতারা হতাশায় নিমজ্জিত। তবুও থেমে নেই কক্সবাজার জেলা বিএনপির গ্রুপিং কার্যক্রম। একদিকে রয়েছে কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের গ্রুপ। এই গ্রুপে নেতা থাকলেও সাধারণ কর্মী সমর্থক কম।
অন্যদিকে রয়েছে সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজল গ্রুপ। তৃণমূলের কর্মীরা এই গ্রুপে রয়েছেন। লুৎফর রহমান কাজল কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকায় তার সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের কর্মীসমর্থকরা। ফলে তার নেতৃত্বে বিএনপি সক্রিয় রয়েছে। যদিও দলের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সালাহ উদ্দিন গ্রুপ সমর্থিত সভাপতি শাহাজান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।
তবে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নিমজ্জিত হলেও সরকারের পুলিশ বাহিনীর ভয়ে দলীয় কার্যক্রম চালান না জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। মাঝে-মধ্যে মিটিং-মিছিল থাকলেও অনেকে মামলার ভয়ে আসেন না। এমনকি খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনেও তারা পথে নামেন না।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে লুৎফর রহমান কাজল এমপি নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি এমপি নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তিনি তেমন সুবিধা করতে না পারলেও সালাহ উদ্দিন সমর্থকদের সঙ্গে তার গ্রুপের দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি নির্বাচনে যাননি। পরবর্তী সময়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদ কাটিয়ে সমঝোতায় আসে দুগ্রæপ।
অন্যদিকে জেলাসহ আট উপজেলার ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভা কমিটি রয়েছে জাতীয় পার্টির। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন হয়। তখন সাবেক এমপি হাজী মো. ইলিয়াসকে সভাপতি ও মফিজুর রহমান মফিজকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ জন নিয়ে জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠিত হয়। হাজী ইলিয়াস এ সময় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি ছিলেন বিধায় কিছু মানুষ তার পেছনে থাকায় দলের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজের সঙ্গে গ্রæপিং জিইয়ে থাকে। তবে মফিজ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় থাকায় তার সঙ্গে গ্রুপিং করে দলের কেউ কুলিয়ে উঠতে পারেনি। বর্তমানে তার নেতৃত্বেই জেলাজুড়ে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম চলছে।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, সারা দেশে রংপুরের পরেই আমাদের অবস্থান। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভাজনে সরকারের হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুতে দলের কার্যক্রম কমে গেছে। নতুন করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত এলে আমরা জোরালোভাবে মাঠে নামব। সুত্র : সময়ের আলো

পাঠকের মতামত