ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৫/০৬/২০২৩ ৯:২৩ পিএম
দৃশ্যমান রেল পথ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে নতুন করে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ডলারপ্রতি ১০৮ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় চার হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ঋণচুক্তিটি সই হয়েছে।

রোববার (২৫ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব শরিফা খান এবং এডিবির পক্ষে বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের (বিআরএম) অফিসার ইনচার্জ জিয়াংবো নিং ঋণচুক্তিতে সই করেন।

জিয়াংবো নিং বলেন, এডিবি বাংলাদেশ সরকারকে সড়কপথ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে রেলপথ-নির্ভর হতে সহায়তা করছে। এটা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে কক্সবাজার এলাকায় বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের আরও একটি দিক হলো, এটি বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও অক্ষম মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

চলতি ২০২৩ সালেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মধ্যেই বছরে ২৯ লাখ যাত্রী এই রেলপথে ভ্রমণ করবেন বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে এই প্রকল্প।

বর্তমানে ওই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ দিকে। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এতে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে রেলওয়ে সংযোগ স্থাপন; যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে রেলওয়ের অংশীদারত্ব বাড়ানো; কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং একইসঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরের সঙ্গে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরকে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ১ জুলাই ২০১০ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত। এডিবির এ অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণ সুদের হার দশমিক ৫ শতাংশ ও ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া অবিতরণকৃত ঋণের ওপর দশমিক ১৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণে মোট ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি। সেই ঋণের তৃতীয় কিস্তি হিসেবে এই ৪০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি। এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে দ্বিতীয় ধাপে ৪০ কোটি ডলার এবং তার আগে ২০১৭ সালের জুনে স্বাক্ষরিত আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে প্রথম কিস্তিতে সরকারকে ৩০ কোটি ডলার দেয় এডিবি। প্রকল্পটির আওতায় ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরের সঙ্গে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরকে যুক্ত করা সম্ভব হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকে এডিবি থেকে অর্থনীতির অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন খাতসমূহে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে। এডিবি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে ২৮ হাজার ৮৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা ও ৫৫৩ মিলিয়ন ডলারের অনুদান দিয়েছে।

পাঠকের মতামত

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেল পরিচয়ে প্রতারণা ও পর্যটককে হুমকি দেয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল সীগালের ...

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে’ ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই ...
Single Page Footer