
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় এক শিশু পর্যটক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক শিশু আহত হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম আফরিন সুলতানা (৫)। আহত শিশুর নাম আয়ান (৭)। দুজনেই সম্পর্কে কাজিন বলে জানা গেছে। তারা নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১১টার দিকে ১১ জনের একটি দল ঘুরতে আসেন মহেশখালীতে। তাদের ২১ তারিখ পর্যন্ত কক্সবাজার ঘোরার পরিকল্পনা ছিল। এ সময় আদিনাথ জেটি এলাকায় দ্রুতগতির একটি মিশুক গাড়ি ওই শিশুদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আফরিন সুলতানার মৃত্যু হয় এবং আয়ান আহত হয়।
নিহত আফরিনের বাবার নাম আল আমিন এবং মায়ের নাম শেখ হাসিনা।
নিহতের মামা মেসবাহ উদ্দীন ভূঁইয়া জানান, সকাল ১১টার দিকে দ্রুতগতির মিশুক গাড়ির সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিশুক গাড়ির চালক তাকিল (১৮) পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, পর্যটন মৌসুমে মহেশখালীর আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এস এম রুবেল বলেন, একটা শিশু মহেশখালী বেড়াতে এসেই তার মৃত্যু হয়েছে। এটি আসলে মেনে নেওয়ার মতো বিষয় না। ভুক্তভোগীরা আইনগত পদক্ষেপ না নিলে হয়তো বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো চালক পার পেয়ে যাবে, তবে ভুক্তভোগীর মনে আজীবনের একটা ক্ষত থেকে যাবে যে মহেশখালী ঘুরতে গিয়ে আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। এই যে হারানোর ব্যাপারটা এটার দায় স্থানীয় এমপি, ইউএনও ও চেয়ারম্যানকে নিতে হবে, কারণ মানুষের চলাচলের রাস্তায় অবৈধ টমটম সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের কারণে আজকে একটা প্রাণ গেল।
মহেশখালীর স্মৃতি নিয়ে ফেরার কথা ছিল তাদের, অথচ তারা ফিরছে এক নিথর দেহ নিয়ে।

পাঠকের মতামত